জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দেশটিতে আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জাপানি সংসদের নিম্নকক্ষের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার চিঠি পাঠ করে শোনান। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাপানে এই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। গত সোমবারই (১৯ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তার এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনগণের সরাসরি সমর্থন বা ম্যান্ডেট লাভ করা।
বর্তমানে জাপানের ক্ষমতায় রয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) শাসক জোট। তবে নিম্নকক্ষে এই জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন বেশ নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।
এলডিপি দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কেলেঙ্কারি এবং জনসমর্থন হ্রাসের সংকটে থাকলেও, তাকাইচি ব্যক্তিগতভাবে তার মন্ত্রিসভার প্রতি থাকা ইতিবাচক জনমতকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মন্ত্রিসভার জনপ্রিয়তা শেষ পর্যন্ত দলের জন্য কতটুকু ভোট টানতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, কারণ দেশটির সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ এখন আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা।
জাপানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দুর্বল মুদ্রামান বা ইয়েনের দরপতনের কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
বিশেষ করে চালের উচ্চমূল্য এই সংকটের প্রতীকে পরিণত হয়েছে; গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চালের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়েছিল এবং ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী তা এখনো আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই গত অক্টোবর মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পতনের পর তাকাইচি ক্ষমতায় আসেন। এবারের নির্বাচনে তাই মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কারই হবে জয়-পরাজয়ের প্রধান নির্ধারক। সূত্র: এএফপি
Publisher & Editor