শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ধূমপায়ীদের একটি জটিল শ্বাসরোগ সিওপিডি

প্রকাশিত: ০৫:৫৮, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১

ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ এয়ারওয়ে ডিজিজ বা সিওপিডি শ্বাসতন্ত্রের একটি গুরুতর রোগ। এতে শ্বাসনালিতে বাতাস প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। সিওপিডি বলতে দুই ধরনের সমস্যা বোঝায়। একটি ক্রনিক ব্রংকাইটিস, অন্যটি এমফাইসিমা।
ক্রনিক ব্রংকাইটিসে শ্বাসনালির ভেতরের আস্তরণে প্রদাহ হয় ও ফুলে যায় এবং অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি হয়, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের পথকে সরু করে দেয়। বছরে কমপক্ষে তিন মাস ধরে শ্লেষ্মা উৎপন্নকারী কাশি হলে ক্রনিক ব্রংকাইটিস হয়েছে বলে সন্দেহ করা যায়।

এমফাইসিমা হলে ফুসফুসের অ্যালভিওলি বা বায়ুথলিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। এতে বায়ুথলিগুলো বড় হয়ে যায় এবং গ্যাস বিনিময়ের পৃষ্ঠতল কমে যায়, ফলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই–অক্সাইডের আদান-প্রদান ব্যাহত হয়।

সিওপিডি হলে শ্বাসনালিতে বাধা থাকায় নিশ্বাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে না, ফলে ফুসফুসে বাতাস আটকে থাকে এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। এই পরিবর্তনগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস করতে থাকে।

কারণ ও লক্ষণ
অন্যতম একটি কারণ ধূমপান। ধূমপানে ফুসফুসে প্রদাহ ও কাঠামোগত ক্ষতি করে। আরেকটি কারণ বায়ুদূষণ। দূষিত বায়ুর মাধ্যমে ধুলা, ধোঁয়া ও রাসায়নিক পদার্থের দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শ। এ ছাড়া জেনেটিক বা বংশগতির কারণে হয়ে থাকে।

যাঁরা ধূমপায়ী ও ৪০ বছরের বেশি বয়স, তাঁদের এ রোগের ঝুঁকি বেশি। এর প্রধান লক্ষণ শ্বাসকষ্ট। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী অধিক পরিশ্রম করার সময় শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে পারেন। তবে ধীরে ধীরে অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং একসময় সামান্য পরিশ্রমে বা এমনকি বিশ্রামের সময়ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী কাশি সিওপিডির অন্যতম প্রধান লক্ষণ। বছরের বেশির ভাগ সময় কাশি থাকে এবং শীতকালে বেড়ে যায়। কাশি শুষ্ক হতে পারে বা শ্লেষ্মাসহ হতে পারে, যা স্বচ্ছ, সাদা, হলুদ বা সবুজ হতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে জ্বর আসে। ওজন কমে যেতে পারে। শীতকালে এই উপসর্গগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
ধূমপান বন্ধ করা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ। ধূমপান ত্যাগ করলে কেবল ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাসের হার কমানো যায় না, লক্ষণগুলো কমে যায় এবং তীব্রতার ঝুঁকি হ্রাস পায়। যাঁদের শরীরে অক্সিজেনের অভাব রয়েছে, তাঁরা বাসায় অক্সিজেন থেরাপি নিতে পারেন। অন্য চিকিৎসাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনহেলার, পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন, ভ্যাকসিনেশন (ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়া), কিছু ক্ষেত্রে সার্জারি বা ফুসফুস প্রতিস্থাপনও করতে হতে পারে।

ধূমপান ত্যাগের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। বায়ুদূষণ, ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ধুলাবালু থেকে দূরে থাকবেন। খেতে হবে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার। নিয়মিত ব্যায়াম বেশ উপকারী।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor