শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র বার্ষিক সাধারণ সভায় কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ আরো ১বছর বৃদ্ধি

প্রকাশিত: ০৫:২৩, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩

জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের বার্ষিক সাধারণ সভা গত সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬ জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্ট ও পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিপুল সংখ্যক জালালাবাদবাসী উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি বদরুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের সঞ্চালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছদরুন নূর, বাংলাদেশ সোসাইটি ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, বাংলাদেশ সোসাইটি বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আজিমুর রহমান বুরহান, বাংলাদেশ সোসাইটি ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি সদস্য মকবুল রহিম চুন্নই, জালালাবাদ এসোসিয়েশন সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের সহ-সভাপতি মো. লুকমান হোসেন লুকু, সহ-সভাপতি মো. শফিউদ্দিন তালুকদার, সহ-সভাপতি মো. জাবেদ উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীম।

এছাড়াও কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়ছল আলম, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দীন, এবং কার্যনির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবির সোহেল, আব্দুল আজিজ ও মো. দেলোয়ার হোসেন মানিকসহ অন্যান্যরা।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং প্রবাসে বসবাসরত বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সভাপতি বদরুল খান। এরপর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম ও কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীম তাঁদের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাঁর প্রতিবেদনে সংগঠনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, সংগঠনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিগগিরই এ বিষয়ে সমাধান আসবে।

অপরদিকে, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীম তাঁর প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ সময়ে সংগঠনের মোট আয় হয়েছে ৩১,৯৫২ ডলার ১৯ সেন্ট, যার মধ্যে ১৭,৫১০ ডলার ব্যয় করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত সাধারণ সভা থেকে বর্তমান সাধারণ সভা পর্যন্ত আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে কার্যকরী পরিষদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টির পক্ষ থেকে মোট ১১,৮২৬ ডলার ৬ সেন্ট অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত জালালাবাদবাসী সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদনের ওপর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, বিয়ানীবাজার সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আজিজুর রহমান পাখি, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাবেক সহ সভাপতি মোঃ তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাব্বির হোসেন,বিয়ানীবাজার সমিতির সহ-সভাপতি মহিবুর রহমান রুহুল, লীগ অব আমেরিকা সাবেক সভাপিত ইমাদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচন কমিশনার আমিনুল হোসাইন, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সাধারণ মিসবাহ আহমেদ, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সুহান আহমেদ টুটুল, কুলাউড়া সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিতি ছিলেন লাদেশ বিয়ানীবাজার সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফকর উদ্দিন ও গহর চৌধুরী কিনু, বাংলাদেশ সোসাইটি ব্রঙ্কস, নিউ ইয়র্ক ইনকের সাধারণ সম্পাদক শেখ অলি আহাদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, লাখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তালুকদার, লিয়াকত আলী, মো. গোলাম রাব্বানী, সমীর উদ্দিন, মো. উজ্জ্বল, আক্কাস মিয়া ও শামীম আহমেদ, কাজিরুল ইসলাম শিপন, বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য হাসান খান।কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রিপন আহমেদ, বিশিষ্ট কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট হারুন মিয়া, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের আজীবন সদস্য চৌধুরী মোমিত তামিম, আশফাকুল হক চৌধুরী, সাইফউদ্দিন আহেদ শামীম ও সৈয়দ শাহানসহ আরও অনেকে। আলোচনায় অনেকেই সংগঠনের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকরী পরিষদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

চলমান মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সভায় উপস্থিত সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। যদিও সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ তাঁদের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আপডেট প্রদান করেছেন, তবুও উপস্থিত সদস্যরা কার্যকরী পরিষদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিদের প্রতি জোরালোভাবে অনুরোধ জানান যেন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় এবং সংগঠন থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

একই সঙ্গে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক কর্মকর্তারা বিনীতভাবে বর্তমান কার্যকরী পরিষদকে অন্তত আরও এক বছর দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানান, যাতে চলমান মামলাটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নতুন কমিটি মামলার সব দিক সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত নাও থাকতে পারে, যা মামলার অগ্রগতিতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে তাঁরা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান কমিটিকে বহাল রাখার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি বলা হয়, মামলা যদি এর আগেই নিষ্পত্তি হয়, তাহলে সে সময় নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।

দীর্ঘ আলোচনার পর কার্যকরী পরিষদ শুরুতে তাঁদের মেয়াদ বাড়াতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাধারণ উপস্থিত সদস্যদের বারবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকার শর্তে কার্যকরী পরিষদ নির্ধারিত সময়ের জন্য দায়িত্ব পালনে সম্মতি প্রদান করে। সভাপতি তাঁর সমাপনী বক্তব্যে জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও সম্মান রক্ষা করে যে কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধানে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সর্বদা প্রস্তুত। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor