বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

স্মিথ-হেডের কীর্তিময় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বড় লিড

প্রকাশিত: ০৬:৩৭, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ |

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জো রুটের ম্যারাথন ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। তবে ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং তাণ্ডবে কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে সফরকারীরা। ট্র্যাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ১৩৪ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছিল ২ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে।

মঙ্গলবার সেই সংগ্রহ থেকেই ইনিংস এগিয়ে নেন হেড। নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসারকে সঙ্গে নিয়ে দিনের শুরুতেই ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান তিনি। নেসার ৯০ বল খেলে করেন মূল্যবান ২৪ রান। দুজনের ৭২ রানের জুটি ভাঙার পর স্টিভ স্মিথকে সঙ্গী পান হেড।

দ্বিতীয় সেশনে এই জুটিতে যোগ হয় আরও ৫৪ রান।
হেড শেষ পর্যন্ত আউট হলেও খেলে গেছেন দারুণ এক ইনিংস। ১৬৬ বলের ইনিংসে ২৪টি চার ও একটি ছক্কায় ১৬৩ রান করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের প্রথম ভাগে হেড, পরের ভাগে পুরো নিয়ন্ত্রণ নেন স্মিথ।

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা উসমান খাজা (১৭) এদিন হতাশ করেন। যদিও স্মিথের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৫১ রানের। এরপর অ্যালেক্স ক্যারি (১৬) ব্যর্থ হলেও ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নেন স্মিথ। দিনের শেষ ভাগে বেউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে ৮১ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

দিন শেষে ৭ উইকেটে ৫১৮ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।

২০৫ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন স্মিথ। ১৬৬ বলে ক্যারিয়ারের ৩৭তম সেঞ্চুরি করেন তিনি। অন্য প্রান্তে ওয়েবস্টার খেলছিলেন ৪২ রানে। এই ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে—টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৭ সালে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত গড়েছিল আটটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি।
মাঠে দিনটি ছিল ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন। চারটি ক্যাচ ফেলার পাশাপাশি একটি নিশ্চিত রানআউটের সুযোগ নষ্ট করে তারা। অ্যাশেজে অভিষেক ম্যাচে দুঃস্বপ্নের দিন কাটে ম্যাথু পটসের। ২৫ ওভারে তিনি দেন রেকর্ড ১৪১ রান। ব্রাইডন কার্স তিন উইকেট নিলেও খরচ করেন ১০৮ রান।

ব্যক্তিগত কীর্তিতেও দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন স্মিথ ও হেড। নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ডন ব্র্যাডম্যানের (৫০২৮) পরেই এখন স্মিথের নাম (৩৬৮২)। অ্যাশেজে এটি ছিল তার ১৩তম সেঞ্চুরি—ইংল্যান্ডের জ্যাক হবসকে (১২) ছাড়িয়ে তিনি এখন দ্বিতীয়, তার ওপরে কেবল ব্র্যাডম্যান (১৯)। সিডনিতে ১২ ম্যাচে স্মিথের রান ১২২৫, সেঞ্চুরি ৫টি। এই ভেন্যুতে কেবল রিকি পন্টিংয়ের পরিসংখ্যান আরও উজ্জ্বল।

অন্যদিকে, সিডনিতে পঞ্চম টেস্টের তৃতীয় দিনে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডবইয়ে নাম লেখান হেডও। এটি তার এই ভেন্যুতে প্রথম সেঞ্চুরি এবং এক সিরিজে ওপেনার হিসেবে যৌথভাবে তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। চলতি অ্যাশেজে পার্থ ও অ্যাডিলেডের পর এটি তার তৃতীয় শতক—যার মাধ্যমে ম্যাথু হেইডেন, অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল স্ল্যাটার ও জ্যাক হবসের মতো কিংবদন্তিদের পাশে জায়গা করে নিলেন তিনি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি, ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন হেড। ২০০২–০৩ মৌসুমে হেইডেনের পর প্রথম অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে ঘরের মাঠে অ্যাশেজে তিনটি সেঞ্চুরি করলেন তিনি। একই সঙ্গে ১৫২ বলে দেড়শ রান করে অ্যাশেজ ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ১৫০ করার রেকর্ড গড়েন। ৯৬ বছরের পুরোনো ডন ব্র্যাডম্যানের কীর্তিকেও পেছনে ফেলেন হেড।

এ ছাড়া বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্ট সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন হেড। অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, হোবার্ট, পার্থ ও মেলবোর্নের পর এবার সিডনিতেও শতক হাঁকালেন তিনি। 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor