কাঁচা পেঁয়াজে থাকে ফ্রুক্টান নামক এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট। এটি ঠিকমতো হজম হয় না। এর ফলে পেটে গ্যাস, বদহজম, পেট ফাঁপা ও ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস) আছে, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
অনেকেরই বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা থাকে। কাঁচা পেঁয়াজ খেলে এই সমস্যা আরো বাড়তে পারে। কাঁচা পেঁয়াজ খেলে পেশি শিথিল হয়ে যায় এবং পাকস্থলীর এসিড ওপরে উঠে আসে। এর ফলে বুকে ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।
তাই রাতে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে হালকা ভেজে খাওয়া যেতে পারে।
কাঁচা পেঁয়াজ খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। পেঁয়াজে থাকা সালফার যৌগের কারণেই এই দুর্গন্ধ হয়।
মুখ ধোয়ার পরেও দুর্গন্ধ যায় না। বন্ধুদের সঙ্গে বা অফিসে থাকাকালীন এটি বিব্রতকর হতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে পেঁয়াজ থেকে অ্যালার্জি হয়। এর ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। আপনারও যদি এই ধরনের সমস্যা থাকে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অবহেলা করলে পরে বড় সমস্যা হতে পারে।
কাঁচা পেঁয়াজ রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা করতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীদের এই ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়াও উচিত নয়। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও এটি ভালো নয়। যদিও এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, তবুও এটি হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
পেঁয়াজ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। হালকা ভেজে বা রান্না করে খেলে হজমে সুবিধা হয়। এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। আপনি যদি কাঁচা খেতে চান, তাহলে খুব অল্প পরিমাণে খান। সালাদেও দিতে পারেন। মুখের দুর্গন্ধ রোধ করতে আপেল খেলে সালফার যৌগের প্রভাব কমে। পানিতে ভিজিয়ে রাখলেও কিছুটা ঝাল কমে।
কাঁচা পেঁয়াজের অনেক উপকারিতা আছে। তবে অতিরিক্ত খেলে ঝুঁকিও আছে। উপকারিতার কথায় আসলে, এতে ক্যোয়ারসেটিন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এ ছাড়া এটি শরীরে প্রদাহ কমায়।
এতে থাকা ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কাঁচা পেঁয়াজ প্রো-বায়োটিক সমৃদ্ধ। এগুলো আমাদের অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে। এ ছাড়া এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। এগুলো কিছু ধরনের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
Publisher & Editor