মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া

প্রকাশিত: ০৫:৫২, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ২৫

নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষক তাহসিন ফেরদৌস আর নেই। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের (বিপা) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অ্যানি ফেরদৌস এবং প্রকৌশলী জাফর আহমেদের একমাত্র কন্যা।

গত ১৮ অক্টোবর রোববার ভোরে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হঠাৎ তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। তবে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুকালে তাহসিন ফেরদৌস স্বামী, শিশুপুত্র লুকাস, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

তাহসিন ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের একজন শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বাংলা নৃত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ছিল সক্রিয় ভূমিকা। মায়ের অনুপ্রেরণায় শৈশবেই বিপার মাধ্যমে তাঁর নৃত্যশিক্ষার সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে এই প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হন তিনি।

নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিপা প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা, সংগীত ও নৃত্যচর্চা ছড়িয়ে দিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাহসিনের সম্পর্ক ছিল নিবিড়। বিপা এবং শিব জ্যোতি ড্যান্স একাডেমির মাধ্যমে তিনি নিউইয়র্কের মূলধারার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে নিয়মিত নৃত্য পরিবেশন করতেন। তাঁর পরিবেশনায় বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে শেকড়ের সংযোগ তৈরির প্রয়াস ছিল।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বাইরেও তাহসিন সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত ছিলেন। ব্রুকলিনের কেনসিংটনসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। শিল্পচর্চা, শিক্ষকতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি কমিউনিটির মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

তাঁর অকালমৃত্যুর সংবাদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী পৃথক বিবৃতিতে তাহসিন ফেরদৌসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মমিন মজুমদারও পৃথক বিবৃতিতে শোক জানান।মানচিত্র দেখুন

শোকবার্তায় তাঁরা তাহসিনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত মা অ্যানি ফেরদৌস, বাবা জাফর আহমেদসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তাহসিন ফেরদৌসের আকস্মিক প্রয়াণে প্রবাসের সাংস্কৃতিক অঙ্গন হারাল একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী ও শিক্ষককে। তাঁর স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক অবদান নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor