নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী সূচি সাজানোর সুযোগ পেলে নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের মাঝখানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ রাখতে চাইতেন শুবমান গিল। তাতে সব সংস্করণেই পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামতে পারত ভারত।
কিন্তু ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। ফলে কিউইদের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে একসঙ্গে সেরা দল পাচ্ছেন না ভারতীয় অধিনায়ক।
ভারতের সামনে এখন দুটি বড় লক্ষ্য—২০২৭ সালের জুনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল এবং একই বছরের শেষ দিকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এই দুই আসরের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে নিউজিল্যান্ড সফরে সব সংস্করণে শক্তিশালী দল নিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন গিল।
কিন্তু ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের মধ্যবর্তী বিরতি খুব কম হওয়ায় তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহকে পুরো ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রাম দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি গিলসহ টেস্ট দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার শেষ দুই ওয়ানডেতে খেলতে পারবেন না।
অকল্যান্ডে প্রথম ওয়ানডের আগে সংবাদ সম্মেলনে সূচি নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন গিল। তিনি বলেন, ওয়ানডে ও টেস্ট—দুই সিরিজই ভারতের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুযোগ থাকলে এবং সবাই ফিট থাকলে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় থাকা পুরো দলকে সব ওয়ানডেতে খেলাতে চাইতেন তিনি।
গিলের ভাষায়, ‘প্রথমে ওয়ানডে, এরপর টি-টোয়েন্টি এবং সবশেষে টেস্ট সিরিজ হলে আমরা পাঁচটি ম্যাচেই সেরা দল নিয়ে খেলতে পারতাম। কিন্তু ওয়ানডে শেষ হওয়ার পর টেস্ট শুরুর আগে পর্যাপ্ত বিরতি নেই। তাই বাধ্য হয়েই খেলোয়াড়দের ভাগ করে নিতে হচ্ছে।’
এদিকে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা আরও বেড়েছে ভারতের। পয়েন্ট তালিকায় নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার পর চতুর্থ স্থানে রয়েছে তারা।
কিউইদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষে আগামী বছরের শুরুতে নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ভারত। এই দুই সিরিজকে ফাইনালে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন গিল।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই এখন বেশ জমে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের ফল পয়েন্ট তালিকায় দারুণ ভারসাম্য তৈরি করেছে। নিউজিল্যান্ডে ভালো করতে পারলে এবং এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারলে ফাইনালে খেলার ভালো সুযোগ থাকবে আমাদের।’
অন্যদিকে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ভারতের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন হার্দিক পান্ডিয়া। আইপিএলের পর থেকেই চোটের সমস্যায় ভুগছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ইনজুরির কারণে গত মাসে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে ভারত ‘এ’ দলের ৫০ ওভারের সিরিজেও খেলতে পারেননি তিনি।
দলে হার্দিকের গুরুত্ব তুলে ধরে গিল বলেন, ‘সে অসাধারণ একজন ক্রিকেটার। দলের ভারসাম্য তৈরিতে হার্দিকের মতো সামর্থ্য খুব কম খেলোয়াড়ের আছে। নতুন বলে, মাঝের ওভারে কিংবা ডেথ ওভারে বোলিং করার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও সে দারুণ কার্যকর।’
হার্দিকের দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকাকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে গিল আরও জানান, তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ছোটখাটো চোটের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত পুরোপুরি ফিট হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার পাশাপাশি জাতীয় দলেও ফিরবেন বলে আশাবাদী ভারত অধিনায়ক।
Publisher & Editor