বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ব্যালন ডি’অর জয়ের পর এবার কেইনের লক্ষ্য কী?

প্রকাশিত: ০৬:৪০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১১

ব্যালন ডি’অর জিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বপ্ন পূরণ করেছেন হ্যারি কেইন। তবে এখানেই থামতে চান না বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এবার ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি এনে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি।

সোমবার নিজের শহর লন্ডনে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন কেইন। ৩৩ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডের হাত ধরে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ব্যালন ডি’অর জিতলেন কোনো ইংলিশ ফুটবলার।

গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল করেন কেইন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বায়ার্ন মিউনিখ ঘরে তোলে লিগ ও কাপের শিরোপা। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ব্যালন ডি’অরের স্বীকৃতিও পেলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

পুরস্কার জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কেইন বলেন, এটি শুধু স্বপ্নপূরণ নয়, বরং তার কল্পনারও বাইরে ছিল। এমন অর্জনকে অবিশ্বাস্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইংলিশ এই তারকার মতে, তার ব্যক্তিগত সাফল্য পুরো ইংল্যান্ডের জন্যই গর্বের বিষয়। লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার হাতে তুলতে পেরে তিনি আনন্দিত। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইংল্যান্ডকে আবার বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায় তুলে ধরতে পারাটাও তার কাছে বিশেষ কিছু।

ইংল্যান্ড ও টটেনহ্যাম হটস্পারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন। কিন্তু ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর তার দলীয় সাফল্য মূলত জার্মানির ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি এখনো অধরা তার।

গত মৌসুমে সেমিফাইনালে পিএসজির কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেয় বায়ার্ন। জাতীয় দলের হয়েও বড় মঞ্চে হতাশার অভিজ্ঞতা রয়েছে কেইনের। ২০২১ ও ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হারের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ও তার আক্ষেপ বাড়িয়েছে।

তবে বয়স ৩৩ হলেও বড় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন থেকে সরে আসছেন না কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই আরও সাফল্য অর্জনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। তার ভাষায়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা এবং ইংল্যান্ডের হয়ে বড় কোনো ট্রফি জয়ই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে, স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে অল্প বয়সেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। তাদের মতো শুরু থেকেই কেইনকে ভবিষ্যতের মহাতারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। বরং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে।

টটেনহ্যামের মূল দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়ার আগে চারবার ধারে নিম্ন বিভাগের বিভিন্ন ক্লাবে খেলতে হয়েছিল কেইনকে। সেই অভিজ্ঞতাগুলোই তাকে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে শিখিয়েছে বলে মনে করেন এই স্ট্রাইকার।

কেইন জানান, ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় নিজেকে একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উন্নতি করা এবং হয়ত আরও বেশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও ছাড়িয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।

তার বিশ্বাস, শুরুর দিকের সেই সংগ্রামই আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই কোনো সাফল্যকেই সহজভাবে নেন না তিনি। কারণ জাতীয় দল কিংবা বায়ার্ন মিউনিখ—প্রতিটি জায়গাতেই তার অবস্থান কেড়ে নিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অন্য খেলোয়াড়েরা। আর সেই প্রতিযোগিতাই তাকে প্রতিনিয়ত আরও ভালো করার তাগিদ দেয়।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor