বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

তরুণদের পিঠে ব্যথা: যেসব লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ

প্রকাশিত: ০৬:৩৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭

বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে পিঠে ব্যথার সমস্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ক্লান্তি বা সাধারণ পেশির টান ভেবে যে লক্ষণগুলোকে তরুণরা প্রায়ই এড়িয়ে যান, তা আসলে গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এই বিষয়ে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে ডেস্কে বসে কাজ করা কিংবা স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সামনের দিকে ঝুঁকে থাকা মেরুদণ্ড ও ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী পিঠে ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পাশাপাশি, চিকিৎসকরা আরও সতর্ক করেছেন যে, কোনো ধরনের সঠিক নির্দেশনা ছাড়া অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ব্যায়াম করা বা জিম করাও মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এতে স্পাইনাল ইনজুরি বা ডিস্ক হার্নিশনের মতো জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

দীর্ঘসময় বসে থাকা এবং কুঁজো হয়ে কাজ করার অভ্যাস পিঠের অস্বস্তিকে বাড়িয়ে তোলে, বিশেষ করে যখন এর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অফিসের বা পড়ার টেবিলের ভুল সেটিং যুক্ত হয়। 

বিশেষজ্ঞরা সঠিক কৌশল মেনে ব্যায়াম করা এবং নিজের ফিটনেস লেভেল অনুযায়ী ওজন বেছে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। ভুল উপায়ে ভারী জিনিস তোলা বা অতিরিক্ত ওজন ব্যবহারের ফলে চোট পাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। 

তবে মনে রাখতে হবে, পিঠে ব্যথার নানা কারণ থাকতে পারে; তাই পিঠে ব্যথা মানেই যে মেরুদণ্ডের কোনো বড় সমস্যা, বিষয়টি এমন নয়।

ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা করবেন না 

চিকিৎসকরা তরুণদের পরামর্শ দিয়েছেন, পিঠে ব্যথা যদি বারবার ফিরে আসে বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। একে সাধারণ ক্লান্তি বা পেশির টান ভেবে বসে না থেকে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে ব্যথার আসল কারণ জানা যায় এবং সেই অনুযায়ী দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা বা চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়।

কখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যাবেন? 

পিঠে ব্যথার সঙ্গে যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে আর দেরি না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া উচিত:

পায়ে নতুন করে দুর্বলতা অনুভূত হওয়া। 
গোপনাঙ্গ বা কুঁচকির চারপাশ অবশ হয়ে যাওয়া। 
প্রস্রাব বা পায়খানার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সমস্যা হওয়া। 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor