রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখে সিডনির পরিবারের সদস্যদের যে প্রতিক্রিয়া ছিল

প্রকাশিত: ০৬:৫৯, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬

বিনোদন জগতে একজন অভিনয়শিল্পীর কাছে রুপালি পর্দার চরিত্র আর বাস্তবজীবনের চরিত্র— দুটি আলাদা সত্তা। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের কাছে সেই সীমারেখা সবসময় ঠিক থাকে না। বিশেষ করে প্রিয় মানুষটিকে পর্দায় অন্তরঙ্গ দেখলে অস্বস্তিকরভাবে পড়তে পারেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনিকেও।

২০১৯ সালে শুরু হওয়া একটি সিরিজে তার চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়েই ছিল সম্পর্ক, যৌনতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক টানাপোড়েন। ফলে চরিত্রটির প্রয়োজনে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ তুলে ধরতে তাকে অভিনয় করতে হয়েছিল। তবে সিরিজটি দেখার আগে পরিবারের সবাইকে এসব বিষয়ে জানাননি সিডনি সুইনি।

২০২৩ সালে এনবিসির সানডে টুডে উইথ উইলি গাইস্ট অনুষ্ঠানে নিজের পরিবারের প্রতিক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তার মা আগে থেকেই জানতেন সিরিজে কী ধরনের দৃশ্য থাকতে পারে। কারণ তিনি কয়েকবার শুটিং সেটে গিয়েছিলেন। মেয়ের চরিত্র ও গল্প নিয়েও তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। কিন্তু বাবাকে এসব কিছু জানাননি সিডনি সুইনি।

বাবার সঙ্গে সাধারণত তার কাজের বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। তাই ‘ইউফোরিয়া’–তে তার চরিত্রে কী আছে, সেটি বাবাকে কীভাবে বলবেন, তা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। তবে মজার বিষয় হচ্ছে— তাকে না জানিয়েই তার বাবা-মা ও দাদার সঙ্গে বসে সিরিজটি দেখতে শুরু করেন। অর্থাৎ সিডনির বাবা ও দাদা দুজনই একসঙ্গে সিরিজটি দেখতে বসেছিলেন। কিন্তু পর্দায় মেয়েকে এমন দৃশ্যে দেখার পর তারা খুব বেশি সময় তা দেখতে পারেননি। তার বাবা ও দাদা সিরিজটি বন্ধ করে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

২০২৩ সালের ওই সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি বলতে গিয়ে অভিনেত্রী হেসে ফেলেন। অবশ্য পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। সিডনি সুইনি বলেন, আমার দাদি বরং তার কাজের বড় ভক্ত ছিল। আমি বিভিন্ন দেশে শুটিংয়ে গেলে অনেক সময় দাদিকেও সঙ্গে নিয়ে যেতাম। কোনো কোনো প্রজেক্টে দাদিকে অতিরিক্ত চরিত্র হিসেবেও ক্যামেরার সামনে আনার চেষ্টা করতাম।

সিডনির জন্য ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের বিষয়টি শুধু পরিবারের অস্বস্তিতেই থেমে থাকেনি। বরং সিরিজটি জনপ্রিয় হওয়ার পর তার চরিত্রের নগ্নদৃশ্যের স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আরও অস্বস্তিকর বিষয় ছিল, সেসব ছবি তার পরিবারের সদস্যদের ট্যাগ করেও ছড়ানো হয়।

এর আগে ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে সিডনি বলেছিলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে আমার চরিত্রের দৃশ্যের ছবি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কষ্ট দিয়েছিল। ছোট ভাইয়ের অ্যাকাউন্টেও এসব পোস্টের ট্যাগ পৌঁছায়। আমাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে, যা আমার জন্য অসম্মানজনক ও কষ্টদায়ক।’

সামাজিক মাধ্যমে পরিবারের কাছের মানুষ তার নগ্নদৃশ্যের স্ক্রিনশট নিয়ে ট্রল করেছিল। অভিনেত্রী বলেন, পর্দায় তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটি তার ব্যক্তিগত জীবনের পরিচয় নয়। তাই চরিত্রের দৃশ্য কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের টেনে আনা তার কাছে অন্যায্য। ২০২২ সালে দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছিলেন, অভিনয় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু নগ্নদৃশ্যের কারণে অনেকে আমার অভিনয়ের দিকটি নিয়ে আলোচনা করেন না।

সিডনির মতে, পর্দায় নগ্নতার ক্ষেত্রে নারী অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে এক ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড কাজ করে থাকে। তিনি বলেন, পুরুষ অভিনেতা অন্তরঙ্গ দৃশ্য বা শরীর দেখালেও অনেক সময় সেটি অভিনয়ের অংশ হিসেবেই মূল্যায়িত হয়। কিন্তু নারী অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে নগ্নদৃশ্যটিই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে ক্যাসি হাওয়ার্ড এমন এক তরুণীর চরিত্র, যে ভালোবাসা, সম্পর্ক, শরীর এবং অন্যের স্বীকৃতির মধ্যে নিজের পরিচয় খুঁজতে থাকে। চরিত্রটির জীবনের নানা সংকট তুলে ধরতে সিরিজটিতে অন্তরঙ্গতা ও নগ্নতাকে গল্প বলার একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবজীবনে সিডনি সুইনি আর তার অভিনীত ক্যাসি এক মানুষ নন। অভিনেত্রী নিজেও বারবার এই পার্থক্যের কথা বলেছেন। তার পরিবারের সদস্যদের সামনে সিরিজটি দেখার অভিজ্ঞতা সেই পার্থক্যটাকেই আরও স্পষ্ট করে দেয়; দর্শকের কাছে যা একটি চরিত্রের দৃশ্য, পরিবারের কাছে সেটি তাদের পরিচিত একজন মানুষকে পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতা।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor