রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মনীষার সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ায় ভেঙে পড়েছিলেন নানা পাটেকর

প্রকাশিত: ০৬:৫৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫

অভিনেতা নানা পাটেকর সম্প্রতি নিজের বাসভবনে প্রয়াত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার, অনুরাগী ও সহকর্মীরা। অভিনয়ের নিজস্ব ঘরানা তৈরি করেছিলেন তিনি। বলিউডের প্রচলিত নায়কের ছাঁচে কখনো নিজেকে বাঁধেননি এ অভিনেতা।

তবে নব্বইয়ের দশকে তার ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সঙ্গে সম্পর্ক প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসত। দীর্ঘদিন সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি দুজনেই। কিন্তু বিচ্ছেদের পর এক সাক্ষাৎকারে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নানা পাটেকর।

১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেছিলেন অভিনেতা নানা পাটেকর। তিনি বলেছিলেন, ‘খুব কঠিন সময় ছিল। এই যন্ত্রণা বুঝতে হলে নিজেকে সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। দয়া করে এ নিয়ে আর কথা বলবেন না। মনীষাকে ভীষণ মনে পড়ে।’

বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সঙ্গে সম্পর্কের সময় অভিনেতা নানা পাটেকরের স্ত্রী নীলকণ্ঠীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। যদিও তারা পরে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। অন্যদিকে ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দহালকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু দুই বছরের মধ্যেই তাদের সেই বিয়ে ভেঙে যায়।

‘খামোশী’ ও ‘অগ্নিসাক্ষী’র মতো সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন নানা পাটেকর ও মনীষা কৈরালা। দুটি সিনেমাতেই তাদের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। ‘অগ্নিসাক্ষী’তে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিলেন অভিনেতা। ‘যুগপুরুষ’ সিনেমার শুটিং চলাকালেই তাদের সম্পর্কে ছেদ পড়ে যায়। বিচ্ছেদের পরও ব্যক্তিগত সম্পর্কের তিক্ততা প্রকাশ্যে আনেননি নানা পাটেকর। বরং অভিনেত্রীর প্রতিভার প্রশংসাই করেছিলেন তিনি। 

এ অভিনেতা বলেন, ‘মনীষার প্রতিভা সহজাত। ও আমার দেখা সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম। ও অনেকটা কস্তুরীমৃগের মতো। ওকে এখনো বুঝতে হবে যে, অন্য কারও সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার প্রয়োজন নেই। ওর মধ্যে সব কিছুই রয়েছে, আর সেটাই যথেষ্ট।’

সেই সময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন মনীষা কৈরালা। পরে নিজের স্মৃতিকথা ‘হিলড’-এ মদপানের প্রতি ঝোঁকের কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তিনি বলেছিলেন, ‘শুটিংয়ের চিন্তা থেকে মন সরাতে, নিজেকে অসাড় করে রাখতে মদপান শুরু করেছিলাম। ডায়েট করলে ভডকার ওপর নির্ভর করতাম।’

অভিনেত্রী নব্বইয়ের দশকে এই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যখন যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় এক সাক্ষাৎকারে তার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন নানা পাটেকর। তিনি বলেছিলেন, ‘ও নিজের সঙ্গে যা করছে, তা দেখলে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। হয়তো আজ ওর বিষয়ে কিছু বলার অধিকারও আমার নেই।’

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor