শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সাহিত্যের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা মিত্রের নয়, শত্রুর বৈকি

প্রকাশিত: ১৩:৪৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১২

সাহিত্যের মিত্র যদি হয় মনুষ্যত্ব, তাহলে শত্রুটা কে? শত্রু হচ্ছে অমানবিকতা, যার কেন্দ্রে রয়েছে সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা। সাহিত্য চায় মানুষকে যুক্ত করতে—মানুষের সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে, ইতিহাসের সঙ্গে, জ্ঞানের সঙ্গে মানুষের মৈত্রী গড়া তার লক্ষ্যগুলোর একটি।

মানুষকে সংবেদনশীল, দর্শনমনস্ক ও মেরুদণ্ডসম্পন্ন করার দায়িত্ব সে নিজের কাঁধে তুলে নেয়। অন্যদিকে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানার লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন, মুনাফালিপ্সু এবং স্থূলভাবে ভোগবাদী করে তোলা।
সন্দেহ নেই যে সাহিত্য বর্তমানে সংকটের মধ্যে রয়েছে। মানুষ এখন আগের মতো বই পড়ে না, পড়তে চায় না।

এর একটা কারণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অগ্রগতি একদিকে মানুষকে অত্যন্ত ব্যস্ত রাখছে জীবিকা ও মুনাফা অর্জনের কাজে এবং ব্যস্ত রেখে মানুষকে অসামাজিক করে তুলছে, সংকুচিত করছে তার মনুষ্যত্বকে; অন্যদিকে প্রযুক্তির উন্নতি গ্রন্থকে যেমন সহজলভ্য করছে, তেমনি করে তুলেছে পড়বার যত না, তার চেয়ে অধিক দেখবার বস্তুতে। বই তো দেখবার বস্তু নয়, পড়বার বিষয়। পড়তে হয় মন দিয়ে তো বটেই, কান ও চোখ দিয়েও। সাহিত্যের অভ্যন্তরে যে সংগীত থাকে তা চোখে দেখা যায় না, কান পেতে শুনতে হয়।

আর বই মানে বই-ই; ছাপানো বাঁধানো একটি জিনিস, তাকে সঙ্গে রাখা যায়, কাছে রাখতে পারি, পেতে পারি শেলফে এবং পাঠাগারে। গ্রন্থপাঠের ব্যাপারে যন্ত্রের হস্তক্ষেপ অহেতুক বিড়ম্বনা সৃষ্টির কারণ।
সাহিত্যের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা মিত্রের নয়, শত্রুর বৈকিতাই বলে বইয়ের দুর্দশার জন্য যন্ত্র, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কিন্তু দায়ী নয়। দায়ী সম্পদের পুঁজিবাদী মালিকানা। যন্ত্রের যারা মালিক, তারা চায় না মানুষ বই পড়ুক, বিশেষ করে সাহিত্যের বইয়ের ব্যাপারে তাদের ভীষণ অনীহা।

কারণ সাহিত্যপাঠ মানুষকে সংবেদনশীল করবে; আর সংবেদনশীলতা হচ্ছে কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রাথমিক স্তর। পুঁজিবাদ মানুষের মনুষ্যত্বের তো অবশ্যই, এমনকি প্রাণ ও প্রকৃতিরও শত্রু, শত্রু তাই সে সাহিত্যেরও। পুঁজিবাদ বাজার চায়, মানুষ চায় না। সবকিছুকেই সে পণ্য করে তুলবার ইচ্ছা রাখে। বস্তুর অভ্যন্তরীণ মূল্য বাড়ায় না, বিজ্ঞাপন ও মোড়কের সাহায্যে তার দাম বাড়াতে থাকে। পুঁজিবাদের বিশেষ আগ্রহ মারণাস্ত্র, মাদক ও পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিক্রিতে। কারণ তাতে মুনাফা সর্বাধিক। মানুষের ক্ষতিবৃদ্ধি নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।
মৃত্যুর অল্পদিন আগে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘সভ্যতার সংকট’ নামের অভিভাষণটি রচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনের প্রথম আরম্ভে সমস্ত মন থেকে বিশ্বাস করেছিলুম য়ুরোপের অন্তরের সম্পদ ওই সভ্যতার দানকে। অথচ আজ আমার বিদায়ের দিনে সে বিশ্বাস একেবারে দেউলিয়া হয়ে গেল।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখনো শেষ হয়নি, চলছে; এবং ‘অকিঞ্চিৎকর উচ্ছিষ্ট সভ্যতাভিমানের পরিকীর্ণ যে ভস্মস্তূপকে’ দেখে রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত পীড়িত বোধ করছিলেন, সেটা আসলে ছিল ইউরোপেরই দান; ইউরোপীয় পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদই ওই ধ্বংসকাণ্ড ঘটিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য তাকে ওই পরিচয়ে অভিহিত করেননি। এর আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জাতীয়তাবাদের সমালোচনা করে আমেরিকা ও জাপানে তিনি যে অভিভাষণ দিয়েছিলেন, তাতেও আসলে মুক্তিসংগ্রামী জাতীয়তাবাদকে নয়, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেই বলেছিলেন; যদিও ওই নামে তাকে ডাকেননি।

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে, কিন্তু তৃতীয় একটি বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা ও প্রস্তুতি দুটোই সমান তালে এগোতে থাকে। আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধ বাধেনি ঠিকই, কিন্তু নানা পথে ও বহু ধরনে ধ্বংসযজ্ঞটা ঠিকই চলেছে। হ্যাঁ, উন্নতি ঘটেছে, এবং সেটা অবিশ্বাস্য পরিমাণে ও অপ্রতিরোধ্য গতিতে; কিন্তু যত ঘটেছে উন্নতি, তত বেড়েছে বৈষম্য ও বিচ্ছিন্নতা। উন্নয়নের তৎপরতা বিশ্ববাসীকে, এবং বিশ্বকেও, ধ্বংসের শঙ্কার দিকে ঠেলে দিয়েছে। পুঁজিবাদী সভ্যতার নিকট অবদান হচ্ছে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ, যার হাতে শুধু যে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুই ঘটেছে তা-ই নয়, মানুষের মনুষ্যত্বই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। করোনাকে বলা যায় পুঁজিবাদের যথার্থ প্রতীক ও বিশ্বস্ত দূত; তার বাণী ছিল, বাঁচতে হলে সর্বপ্রকার সামাজিকতাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দাও এবং আত্মস্বার্থ রক্ষার আদিম গুহাতে আক্ষরিক অর্থেই প্রত্যাবর্তন করো। আর এখন এই মুহূর্তে যখন এই লেখাটি লিখছি, তখন আমেরিকা ও জায়নবাদী ইসরায়েল ফিলিস্তিন ও ইরানে নৃশংস আগ্রাসনের যে ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে, সেটাও পুঁজিবাদী সভ্যতারই দান। একদা হিটলার যে কাজ করেছিল, আজ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সেই কাজই করছে; এবং বিস্ময়কর যা তা হলো, হিটলারের হাতে যাঁরা অতি নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন, সেটা আজ করছে তাদের পক্ষের বলে দাবিদার কিছু মানুষ। এটা বিস্ময়কর এদিক থেকে যে মানবসভ্যতা তো এত দিনে অনেক দূর এগিয়েছে; কিন্তু এটা আবার স্বাভাবিকও, কেননা পুঁজিবাদী উন্নয়নের মধ্যেই রয়েছে আধিপত্যবাদের ওই মানুষ্যত্ববিনাসী নৃশংসতার বীজ।

১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথ আশা করেছিলেন, ‘মহাপ্রলয়ের পরে বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে একটি নির্মল আত্মপ্রকাশ হয়তো আরম্ভ হবে’। বলাই বাহুল্য, সে আশা পূরণ হয়নি, উল্টো ‘মহাপ্রলয়ের’ ধ্বংসলীলা আরো প্রসারিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আজ আশা করে আছি, পরিত্রাণকর্তার জন্মদিন আসবে আমাদের এই দারিদ্র্যলাঞ্ছিত কুটিরের মধ্যে’, এবং ‘সভ্যতার দৈববাণী সে নিয়ে আসবে এই পূর্ব দিগন্ত থেকেই’। তা তেমন একটা ঘটনা ঘটেছিল বৈকি, তাঁর এই আশাবাদ প্রকাশের আট বছরের মধ্যেই চীনদেশে মস্ত বড় এক বিপ্লব ঘটেছিল। কিন্তু সেই চীনও আজ আর ‘বিপ্লবী’ নেই, বিপ্লবের সমুদয় ফসলকে আত্মসাৎ করে চীনের হর্তাকর্তারা এখন পথ ধরেছে পুঁজিবাদের।

২. উন্নয়নের সর্বশেষ ও ‘সর্বোত্কৃষ্ট’ অবদান হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই বুদ্ধিমত্তা মানুষের হয়ে এবং মানুষের তুলনায় অনেক বেশি নিপুণতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করবে। মানুষের শ্রম কমবে, উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিকের সঙ্গে মালিকের কোনো দ্বন্দ্ব দেখা দেবে না। ফলে পরিবেশ হবে পরিপূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ। অনেকটা কবরস্থানের মতো।

কিন্তু বিপদ যেটা ঘটতে পারে সেটা অতিশয় ভয়ংকর। কারো কারো মতে অ্যাটম বোমার চেয়েও বড় রকমের। ক্ষতি করবার ক্ষমতা রাখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে যাবে। প্রাচুর্য আসবে, কিন্তু মানুষ তার সৃষ্টিশীলতা ও সংবেদনশীলতা হারাতে থাকবে। অর্থাৎ মানুষ আর মানুষ থাকবে না, এবং আরো যা ভয়াবহ তা হলো যন্ত্র মানুষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফেলতে চাইবে। ওই দুষ্কর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যর্থ হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। আর ওই বুদ্ধিমত্তার মালিকানা যেহেতু চলে যাবে কতিপয়ের হাতে, তাই তাকে ব্যবহার করা হবে মানুষের বিদ্রোহ দমনে; অবশ্য তত্পূর্বেই মানুষ যদি বিদ্রোহ করবার সক্ষমতা খুইয়ে না ফেলে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাহিত্যকেও ছাড় দেবে না। অনেকে এখনই হাতে লেখেন না, লেখেন যন্ত্র ব্যবহার করে; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনামলে যন্ত্র নিজেই লিখে দেবে লেখকের হয়ে। কৃত্রিম সেই লেখা আর যা-ই হোক সাহিত্য হবে না। সাহিত্যের সঙ্গে এই যে নিষ্ঠুর শত্রুতা, এর সমস্তটাই ঘটবে পুঁজিবাদী উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়।

৩. শেকসপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ এবং কাফকার ‘গ্রেগর সামসা’র মধ্যে ব্যবধান বিস্তর। সময়ের দিক থেকে তিন শ বছরের কাছাকাছি। সামাজিক অবস্থান তাঁদের পুরোপুরি ভিন্ন। একজন রাজপুত্র, অন্যজন বেতনভুক নিম্নবিত্ত কর্মচারী; কিন্তু মিল এইখানে যে দুজনেরই প্রাণহানি ঘটে অল্প বয়সেই। এবং এইখানেও যে দুটি ঘটনাই ঘটেছে রাষ্ট্রের শাসনাধীনে। রাষ্ট্র দুটি অবশ্য এক রকমের নয়। হ্যামলেটের বসবাস ছিল রাজতন্ত্রের অধীনে; গ্রেগর সামসা ছিল প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে; শুধু তা-ই নয়, রাষ্ট্র যে ব্যবস্থার লালন-পালনকারী, সেখানে সম্পদের মালিকানা ছিল ব্যক্তিগত, যে জন্য অন্য মানুষদের মতো এদের বেলায়ও জীবন তার মূল্য হারিয়েছিল। তলস্তয়ের আন্না কারেনিনার আত্মহত্যা ঘটে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে; তার স্বামী ও প্রেমিক উভয়েই ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ, উচ্চ রাজকর্মচারী; তারা কেউই পারেনি আন্নাকে চরিতার্থতা দিতে; উল্টো তারাই মেয়েটিকে ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর দিকে। রাষ্ট্র শুধু যে এই মানুষগুলোর সঙ্গেই শত্রুতা করেছে তা নয়; রাষ্ট্রের শত্রুতা সাহিত্যের সঙ্গেও। চরিত্রগতভাবেই রাষ্ট্র হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী; রাষ্ট্র চায় অনুগত সেবক, সাহিত্য চায় সংবেদনশীল ও মেরুদণ্ডসম্পন্ন মানুষ। দুইয়ের লক্ষ্য এক তো নয়ই, বরং পরস্পরবিরোধী। রাষ্ট্র সাহিত্যিককে পারিতোষিক দিতে পারে, অনেক সময় দেয়ও; কিন্তু সাহিত্যের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা মিত্রের নয়, শত্রুর বৈকি।

৪. রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য ছিল, ‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ’। আমরাও বিশ্বাস করি যে ওই বিশ্বাসই ভরসা। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির পুরনো পথ ধরে এগোলে মুক্তি আসবে না; বরং বিপর্যয়ই আরো নিকটবর্তী, ব্যাপক ও গভীর হবে। সভ্যতার শত শত বছরের অগ্রগতির ধারা দাসব্যবস্থা ও সামন্তবাদকে ভেঙে পুঁজিবাদে এসে পৌঁছেছে; এবং পুঁজিবাদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মানবমুক্তির, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি সে রক্ষা করতে পারেনি, নিজের চরিত্রের কারণে। আগের সভ্যতার মতোই পুঁজিবাদী সভ্যতার চরিত্রও নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে ব্যক্তিমালিকানার দ্বারাই। মুক্তির জন্য আজ তাই নতুন এক সভ্যতা গড়ে তোলা আবশ্যক; এবং সেই সভ্যতা হবে পুঁজিবাদবিরোধী, সরলার্থে সম্পদের সামাজিক মালিকানাভিত্তিক।

ওই সভ্যতা গড়ার জন্য সাহিত্য আমাদের সহায়তা দেবে। কারণ সাহিত্য চরিত্রগতভাবেই সামাজিক। সাহিত্য ব্যক্তিই পাঠ করে এটা ঠিক, কিন্তু পাঠ করে একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে; এবং যত পাঠ করে ততই সে আরো সামাজিক হয়। আর সাহিত্য যিনি সৃষ্টি করেন তিনি মেধাবান অবশ্যই, কিন্তু তিনি সমাজেরই মানুষ; এবং মানুষের প্রয়োজনে ও মানুষের জন্যই তাঁর সৃষ্টিনিমগ্নতা ঘটে।

সাহিত্য সমাজবদলে সাহায্য করবে; কিন্তু সাহিত্যের কাছে তো আমরা সঠিকভাবে যেতেই পারব না সমাজ যদি না বদলায়। সমাজ বদলানোটাই এখন মুখ্য প্রয়োজন; এবং সেই প্রয়োজনে সামাজিক বিপ্লব আবশ্যক। কাজটা রাজনৈতিক, কিন্তু সেটি সম্ভব হবে না প্রয়োজনীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ না ঘটলে। সমস্যাটা আজ সারা বিশ্বের; সাংস্কৃতিক জাগরণের জায়গাটাও শুধু স্থানীয় হলে চলবে না, তাকে হতে হবে আন্তর্জাতিক। বস্তুত একই সঙ্গে সে হবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক। জাগরণটা স্থানেই ঘটবে, তবে তার লক্ষ্য হবে বিশ্ব থেকে পুঁজিবাদকে বিতাড়ন করা। ওই লক্ষ্যে সে হবে আন্তর্জাতিক।

সারকথাটা হলো, সাহিত্যের চর্চা চাই; এবং সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে রচনার অন্তর্গত ইতিহাস ও দর্শনকে যেন না ভুলি। ইতিহাস ও দর্শনের পাঠও আজ বিপদগ্রস্ত। কারণটা অভিন্ন; এবং সেটি অন্য কিছু নয়, উন্নয়নের পুঁজিবাদী ধারা ভিন্ন।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor