বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

সামনে এলো ২০১৫ সালে লেখা সেই চিঠি

প্রকাশিত: ০৬:৪৮, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫

মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির বিদায়ী ভাষণের সময় নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এনজো ফার্নান্দেজ। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর জাতীয় দলের অধিনায়ক যখন সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মাঠের মাঝেই চেলসির এই মিডফিল্ডারকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। 

এনজোর এই কান্নাভেজা মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় টিওয়াইসি স্পোর্টসকে এনজো বলেন, ‘সত্যি বলতে আজকের দিনটি ভীষণ আবেগের। মনের মধ্যে নানা রকম অনুভূতির তোড়জোড় চলছে। আশা করি লিও আজকের সময়টুকু উপভোগ করেছেন। আমরা তাকে খুব মিস করব।’ 

এক দশক আগে নিজের শৈশবের নায়ক মেসির উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন ২৫ বছর বয়সি ম্যানসিটি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। মেসিকে দেওয়া অস্রুসজল বিদায়ের এই মুহূর্ত ছড়িয়ে পরতেই আবারও নতুন করে সামনে এলো মেসিকে লেখা এনজোর সেই পুরোনো চিঠি। 

২০১৬ কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়স এনজোর। মেসিকে সিদ্ধান্ত বদলাতে অনুরোধ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসময় ওই চিঠিটি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। 

বহু বছর পর সেই লেখার কথাও নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন এনজো। জানিয়েছিলেন, মেসির বয়স আর নিজের বয়সের হিসাব কষে দেখতেন, কোনোদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার সঙ্গে খেলার সুযোগ হবে কিনা। 

পরবর্তীতে সেই কিশোরের স্বপ্ন শুধু পূরণই হয়নি, কাতার বিশ্বকাপে নিজের আইডলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বজয়ের ট্রফিও উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি। 

এ বছরের আগস্টে মেসি জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর আবারও তাকে নিয়ে একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন এনজো। সেখানে স্মরণ করেছিলেন সেই কিশোরবেলার হিসাবের কথা। জানিয়েছিলেন মেসির সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে জাতীয় দলে এসে তিনি পেয়েছেন এমন একজন মানুষকে, যিনি শুরু থেকেই তাকে দলের একজন মনে করিয়েছেন। 

মেসি তাকে যেভাবে আগলে রেখেছিলেন, সে কথা স্মরণ করে এনজো লেখেন, ‘আইডলের সঙ্গে খেলা দেখার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু এসে এমন একজন মানুষকে পেলাম যিনি প্রথম দিন থেকেই আমাকে আপন করে নিয়েছেন। প্রয়োজনে সবসময় একটি ভালো কথা, পরামর্শ দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছেন। আপনার এই ঋণ আমি কোনোদিন ভুলব না।’  

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor