সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। তবে দেশটিতে ঘুরতে গেলে থাকা, যাতায়াত, খাবার ও বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমে কতটা খরচ হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ থাকে ভ্রমণপ্রেমীদের।
এবার তিন সপ্তাহের সুইজারল্যান্ড সফরের পুরো খরচের হিসাব জানিয়েছেন ভারতের এক ভ্রমণকারী দম্পতি। তাদের ২১ দিনের ভ্রমণে মোট খরচ হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণ কনটেন্ট নির্মাতা প্রকৃতি অরোরা ও আশিষ কুমার সম্প্রতি তাদের সুইজারল্যান্ড সফরের বিস্তারিত ব্যয়ের হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। দুজনের এই ভ্রমণে থাকা, যাতায়াত, খাবার, বিভিন্ন কার্যক্রম ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দম্পতির সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে থাকার পেছনে। ২১ দিনে তারা ছয়টি জায়গায় থেকেছেন। এর মধ্যে ছিল এয়ারবিএনবি, হোম এক্সচেঞ্জ এবং একটি হোটেল। প্রতি রাতে দুজনের থাকার জন্য গড়ে খরচ হয়েছে ১৭ হাজার ভারতীয় রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। ১৫ দিনের ফ্লেক্সি সুইস ট্রাভেল পাসের জন্য তাদের খরচ হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ ভারতীয় রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এই পাসের মাধ্যমে ট্রেন, বাস ও নৌযাত্রার পাশাপাশি গন্ডোলা ব্যবহারের সুযোগ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে ছাড় পাওয়া যায়।
এ ছাড়া বার্নিনা এক্সপ্রেসে ফার্স্ট ক্লাসের জন্য অতিরিক্ত ১৮ হাজার ভারতীয় রুপি খরচ করেছেন তারা। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার টাকা।
বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতার পেছনে তাদের খরচ হয়েছে আরও ৯৭ হাজার ৩০০ ভারতীয় রুপি, যা প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ছিল আলপাইন কোস্টার, গ্রিন্ডেলভাল্ড ফার্স্টের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং অ্যাপেনজেলে বাইক চালানোর মতো অভিজ্ঞতা।
খাবারের খরচও কম ছিল না। রেস্তোরাঁয় নিয়মিত খাওয়ার পরিবর্তে তারা বেশির ভাগ সময় সুপারমার্কেট থেকে বাজার করে রান্না বা প্রস্তুত খাবার খেয়েছেন। ২১ দিনে দুজনের খাবারের পেছনে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ভারতীয় রুপি, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে তিন সপ্তাহের সুইজারল্যান্ড সফরে তাঁদের মোট খরচ হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি বা প্রায় ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে থাকা ও যাতায়াতেই সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হয়েছে।
খরচ কমানোর জন্য কয়েকটি পরামর্শও দিয়েছেন এই দম্পতি। তাদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে থাকার জন্য হোম এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিন রেস্তোরাঁয় না খেয়ে সুপারমার্কেট থেকে প্রস্তুত খাবার ও প্রয়োজনীয় পণ্য কিনলেও খরচ কমানো সম্ভব।
এ ছাড়া সুইস ট্রাভেল পাস বা হাফ ফেয়ার কার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিনামূল্যের পানির ফোয়ারা ব্যবহারের জন্য সঙ্গে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল রাখার কথাও জানিয়েছেন। কম দামে প্রয়োজনীয় বাজার করতে লিডল বা মিগ্রোস এম বাজেটের মতো সুপারমার্কেট ব্যবহারের পরামর্শ তাদের।
তাদের আরো পরামর্শ, এমন আবাসন বেছে নেওয়া ভালো যেখানে অতিথিদের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের পাস দেওয়া হয়। এতে আলাদা করে কিছু পর্যটন কার্যক্রমের খরচ কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে ভ্রমণকারীদের জন্য বাস্তব খরচ ভিসা, বিমানভাড়া, ভ্রমণের সময়, থাকার ধরন ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করবে। তাই এই হিসাবকে সুইজারল্যান্ডে ২১ দিনের ভ্রমণের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
Publisher & Editor