সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

বাসি ভাত গরম করে খেয়ে বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

প্রকাশিত: ০৬:৩৮, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪

ব্যস্ত জীবনের যান্ত্রিকতায় ফ্রিজ আর মাইক্রোওয়েভ ওভেন এখন ঘরের এক অপরিহার্য অংশ। রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিলেন, আর খিদে পেলেই ওভেনে এক-দুটি মিনিট ঘুরিয়ে নিলেই ধোঁয়া ওঠা খাবার প্রস্তুত। জীবনকে সহজ করতে গিয়ে অনেকেই একসঙ্গে অনেকটা ভাত রান্না করে দুই বা তিন দিন ধরে খেয়ে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভাত বারবার গরম করে খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর?

একসঙ্গে বেশি করে ভাত রান্না করে তা দুপুরের বা রাতের খাবারে বারবার গরম করে খাওয়ার চল বেশ পুরোনো। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই সহজ অভ্যাসটিই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে ভাত যদি সঠিক নিয়ম মেনে সংরক্ষণ না করা হয়, তবে তা থেকে বিপদের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও বিষক্রিয়ার ভয়

পুষ্টিবিদদের মতে, ভাত একের অধিকবার গরম করলেই যে সঙ্গে সঙ্গে মারাত্মক কিছু ঘটে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। আসল বিপত্তি ঘটে তখন, যখন রান্না করা ভাত ফ্রিজ থেকে বের করে দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা হয়।

রান্না করার পর ভাত বেশিক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় খোলা থাকলে তাতে ‘ব্যাসিলাস সেরিয়াস’ নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে। সাধারণত চার ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই ব্যাকটেরিয়াগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে ভাত বিষাক্ত হয়ে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেই ভাত আবার গরম করলেও বিষাক্ত ভাব দূর হয় না, ফলে খাদ্যের বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি থেকেই যায়। পাশাপাশি, বারবার ভাত গরম করার কারণে ভাতের মূল পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং এর স্বাদ ও সুগন্ধও বদলে যায়।
বিপদ এড়ানোর সহজ কিছু উপায়

কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চললেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। ভাত রান্না করার পর তা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে ফেলতে হবে। প্লাস্টিকের পাত্রের বদলে কাচের বায়ুনিরোধী বা এয়ারটাইট পাত্রে ভাত রাখা সবচেয়ে নিরাপদ।

পুরো পাত্রে থাকা ভাত বারবার ঠান্ডা ও গরম না করে, যতটুকুর প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করে নেওয়া উচিত।

অনেকে পুরো ভাতের পাত্রটিই ফ্রিজ থেকে বের করে অনেকক্ষণ বাইরে রাখেন এবং সেখান থেকে কিছুটা নিয়ে বাকিটা আবার ফ্রিজে রেখে দেন। এই অভ্যাসটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এভাবে বারবার তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে ভাতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor