পোশাক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া থেকে শুরু করে নারীর নিরাপত্তা ও পিতৃতন্ত্র- বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এর আগেও আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে নারী-পুরুষের সম্পর্ক ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
সম্প্রতি বিহারের জামুইয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার এক সহপাঠীকে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে ভারতজুড়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই কৃতির ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা পোস্ট আলোচনায় এসেছে। তবে পোস্টটিতে তিনি সরাসরি জামুইয়ের ঘটনার উল্লেখ করেননি।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা পোস্টে বলেন তিনি, এটি পুরুষ বনাম নারীর লড়াই নয়। বরং নারীদের লড়াই সেসব পুরুষদের বিরুদ্ধে, যারা পিতৃতান্ত্রিক ও নারীবিদ্বেষী মানসিকতা পোষণ করেন। পাশাপাশি পিতৃতন্ত্রকে সংস্কার বা ঐতিহ্য হিসেবে মেনে নেওয়া নারীদের নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কৃতির এই পোস্টের পর তার আগের কিছু মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ডও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর আগে একটি বিজ্ঞাপনে তার পোশাক নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন অনেকে। সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী ব্যবহারকারীরাও তার পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।
এবার কৃতি যে আরেকটি পোস্টে সমর্থন জানিয়েছেন, সেখানে সমাজের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, কোনো বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রীর শরীরের বিশেষ অংশ বা ক্লিভেজ দেখা গেলে যে পরিমাণ সমালোচনা হয়, ধর্ষণ, গার্হস্থ্য সহিংসতা বা যৌতুকের কারণে মৃত্যুর ঘটনায় সবসময় ততটা প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে পোস্টটি লাইক করেন কৃতি। এরপরই পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে তার শেয়ার করা পোস্টটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
জামুইয়ে কী ঘটেছিল?
ভারতের বিহারে ১৯ সেপ্টম্বর দশম শ্রেণির এ ছাত্রী ও তার এক সহপাঠি মটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় একদল লোক তাদের পথ আটকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগ, এরপর তাদের মারধর করা হয় এবং ওই কিশোরীকে যৌন হেনস্তা করা হয়। গটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরে পুলিশ পকসো আইনে মামলা করে এবং ঘটনায় জড়িত থাকা কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত নন্দন যাদবকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালানোর সময় তিনি আহত হন।
এদিকে, নাবালকভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে-এমন ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
Publisher & Editor