ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে ব্যবহার হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।
তিনি বলেছেন, ‘সরকারের উচিত হবে না এআই-এর নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া।’
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস যুক্তি দেন যে, কীভাবে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলো তৈরি ও নজরদারি করা হবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের আইনপ্রণেতাদের স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল নিজেদের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর না করে, তাদের যেন আইনি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এআই সম্পর্কিত কোনো আইনের প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাওয়া হলে বিল গেটস স্পষ্ট জবাবে বলেন, অবশ্যই প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নজরদারি কেমন হওয়া উচিত সেই আলোচনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি যুক্ত হওয়া দরকার।’
গেটসের মতে, ‘এই ধরনের আইনি বাধ্যবাধকতা এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ কিছুটা বাড়ালেও, প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি একবারে থামিয়ে দেবে না।’
গেটসের উদ্বেগের বিষয়টি কেবল এআইয়ের ভুল করা বা মানুষের চাকরি হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মারাত্মক ক্ষতির উদ্দেশ্যে ক্ষতিকর মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিরা উন্নত এআই ব্যবহার করতে পারে।
বিল গেটস বলেন, ‘এআই নিশ্চিতভাবেই এতটাই শক্তিশালী যে, এটি এমন ঘটনা ঘটাতে পারে যা শত কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘দিনে দিনে প্রযুক্তি যেভাবে শক্তিশালী হচ্ছে এবং ক্ষতিকর মানসিকতার মানুষ যেভাবে এটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে তা পূর্বের যেকোনো অস্ত্রের চেয়ে আলাদা এক নতুন হুমকি তৈরি করতে পারে।’
তবে বিল গেটস সরাসরি একথা বলেননি যে এআই-এর কারণে শত কোটি মানুষ মারা যাবে। তার মূল যুক্তি ছিল, প্রযুক্তিটির এত বড় মাত্রার কোনো দুর্ঘটনা ঘটানোর মতো সক্ষমতা রয়েছে, তাই এআই-এর পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ওপর নজরদারি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এমন সময়ে তার এই মন্তব্য এলো, যখন প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই আলোচনা করছেন যে এআই গড়ার এই প্রতিযোগিতায় বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে কি না।
অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই প্রধান প্রধান এআই কোম্পানিগুলোর জন্য সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়ন, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং মানুষের প্রত্যক্ষ নজরদারির জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সব প্রযুক্তি প্রধান একমত নন। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ মনে করেন, এআই শিল্পব্যাপী সমন্বয়ের চেয়ে কোম্পানিগুলোর নিজেদের ভেতরেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারও এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। মার্কিন হাউস স্পিকার মাইক জনসন জাতীয় নিরাপত্তার দিকগুলো বিবেচনা না করে তড়িঘড়ি আইন তৈরির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তবে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে; ক্যালিফোর্নিয়া বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করেছে এবং মেরিল্যান্ড ও নিউইয়র্কও এআই মনিটরিংয়ে নিজস্ব পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে।
মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথও এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্ধ প্রতিযোগিতার সমালোচনা করে বলেছেন, শক্তিশালী এআই তৈরির ক্ষেত্রে সব কোম্পানির কাছে নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
Publisher & Editor