ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে তাণ্ডব চালাতে শুরু করেছে একটি শক্তিশালী ও অসময়ের ‘নর-ইস্টার’ ঝড়। সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগের এই প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের প্রভাবে পুরো সপ্তাহ জুড়ে অঞ্চলটিতে তীব্র ঝোড়ো বাতাস, রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত এবং মারাত্মক উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে পুরো নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় প্রায় কয়েক কোটি মানুষ বর্তমানে এই ঝড়ের সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ইতোমধ্যেই ঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় শহরের একাধিক রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ মাইল বেগে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ায় বহু গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ও মাসাচুসেটসের হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে ঝোড়ো বাতাসে গাছ ভেঙে পড়ে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় এই অঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ও সাধারণ জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি প্রধান বিমানবন্দরে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নিউইয়র্কের গভর্নর কেথি হোকুল স্থানীয় বাসিন্দাদের উপকূলবর্তী এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ ফেস্টিভ্যালসহ বেশ কিছু বড় অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সামুদ্রিক এই ঝড়টি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন ভারী বর্ষণ ও উপকূলীয় প্লাবন অব্যাহত থাকতে পারে। বেশ কিছু অঞ্চলে মাত্র দুই দিনে পুরো এক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীদের চরম সতর্কতায় থাকার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার কঠোর বার্তা জারি করেছে। সূত্র: সিএনএন
Publisher & Editor