‘মৃত্যু তো আছেই আজ হোক আর কাল ... কিন্তু বেঁচে থাকতে আমার সঠিক মূল্যায়ন হবে কি?’
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক অয়ন চাকলাদারের এমন একটি আবেগঘন পোস্ট সংগীতপাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই পোস্টে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান নিয়ে এক ধরনের চাপা অভিমানই ফুটে উঠেছে।
স্ট্যাটাসে অয়ন লেখেন, ‘যেভাবে আমার ক্যারিয়ার এগিয়েছে, আমার মৃত্যুর পর কিছু মানুষ বলবে, কে এই অয়ন চাকলাদার! ও আচ্ছা! এই গানগুলো ওর গাওয়া, সুর করা, মিউজিক করা! শুনেছি অনেক, কিন্তু ওকে চিনতাম না।’
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমরান মাহমুদুলের সঙ্গে অয়নের বন্ধুত্বের কথা সবারই জানা। গানের ভূবনে তার এমন অনেক বন্ধু সহকর্মী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে নিজের তুলনা টেনে এনে অয়ন আরও লেখেন, ‘কেউ বলবে, ও! ওই যে ইমরানের (ইমরান মাহমুদুল) বন্ধুটা! ভালোই গাইত, কিন্তু ইমরানের মতো নাম করতে পারল না। কেউ বলবে, আহারে ছেলেটার গলাটা ডিফারেন্ট ছিল! কেউ ঠিকমতো ব্যবহার করল না।’
মৃত্যুর পর লোকদেখানো সস্তা আবেগ প্রকাশের চেয়ে একজন সৃষ্টিশীল মানুষকে বেঁচে থাকতেই তার প্রাপ্য সম্মানটা দেওয়া উচিত। সেদিকেই ইঙ্গিত করে অয়ন লেখেন, ‘মৃত্যুর পর আমাকে নিয়ে অনেক আফসোস হবে, আমি জানি। কিন্তু বেঁচে থাকতে আমার সঠিক মূল্যায়ন হবে কি?’
অয়নের এই পোস্টে সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত-অনুরাগীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে দিয়েছেন সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণা।
জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও লেখক লুৎফর হাসান লেখেন, ‘তোমার নিজেরও কি দায় নেই? আমিই তোমাকে নিয়ে আফসোস করি। তোমার মনে পড়ে কি না, আমি খুব বলতাম, তুমি রবীন্দ্রসঙ্গীতে সেরাদের একজন। তুমি রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং খাঁটি আধুনিক গানের বাইরে হাবিজাবি গান যদি না করতে, তোমার স্বতন্ত্র জায়গা অবশ্যই থাকত। তোমার তো জীবিকার এত তাগাদা ছিল না। কয়েক হাজার গান করেছো, মহাকালের প্রতিনিধিত্ব করবে কয়টা গান? যাহোক, সময় ফুরিয়ে যায়নি, আশা করি গুছিয়ে উঠবে। প্রতিভা আছে, মেপে কাজ করো। নিশ্চয়ই তুমি চিহ্ন রেখে যাবে। ভালোবাসা নিও।’
অয়ন চাকলাদার দীর্ঘদিন ধরে গানের নেপথ্য কারিগর হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কণ্ঠশিল্পী হিসাবে পরিচিতির পাশাপাশি সুর ও সংগীতায়োজনেও রয়েছে তার দারুণ দক্ষতা। নিজের একক সত্তা ও মেধার আড়ালে থাকা অয়ন যেন এক মেঘেঢাকা রূপালী চাঁদ।
Publisher & Editor