উৎসব-পার্বণে নিজেকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও দীপ্তিময় করে তুলতে এখন থেকেই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। ঘরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে খুব দ্রুতই আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সেই সঙ্গে চেহারা প্রাণবন্ত করা সম্ভব।
ত্বকের যত্ন মানেই একের পর এক সিরাম, টোনার, ক্রিম আর নানা ধরনের প্রসাধনীর স্তর নয়; বরং প্রয়োজন বুঝে অল্প কয়েকটি সঠিক ধাপ নিয়মিত মেনে চললেই আপনি উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে চর্মরোগ চিকিৎসকরা বলেন, ত্বকের যত্নের রুটিন মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে— ত্বক পরিষ্কার করা, প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট উপাদান ব্যবহার, আর্দ্র রাখা, রোদ থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ত্বকের পরিবর্তন বুঝে রুটিন বদলানো।
সারাদিনে ত্বকে ঘাম, অতিরিক্ত তেল, ধুলা, দূষণ এবং প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ জমে থাকে। তাই ত্বকের যত্নের প্রথম ধাপ পরিষ্কার করা জরুরি। কিন্তু মুখ ধোয়ার পর ত্বক একেবারে টানটান বা খসখসে হয়ে গেলেই যে পরিষ্কার হয়েছে, তা নয়। বরং এমন ক্লিনজার বেছে নিন, যা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল সরাবে, কিন্তু ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেবে না। কারও জন্য দিনে দুবার, আবার কারও জন্য কেবল রাতেই মুখ পরিষ্কার করলে যথেষ্ট।
এর পরের ধাপ সবার জন্য এক নয়। ব্রণ, দাগছোপ, ত্বকের রঙে সামঞ্জস্যহীনতা, খসখসে ভাব বা বয়সের ছাপ— কার কী সমস্যা রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট উপাদান বেছে নিতে হবে। যেমন ভিটামিন সি, নিয়াসিনামাইড, রেটিনয়েড বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড নির্দিষ্ট ত্বকের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। কোন উপাদানটি আপনার ত্বকের জন্য প্রয়োজন, সেটি বুঝে ধীরে ধীরে রুটিনে যোগ করাই ভালো।
আবার তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকেরও আর্দ্রতা প্রয়োজন। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ওপরের স্তরকে সুরক্ষা দেয় এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে। ত্বক শুষ্ক বা স্পর্শকাতর হয়ে গেলে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার কোমল করে ত্বককে। তেলচিটে ত্বকের জন্য জেল বা লোশনের মতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। আর শুষ্ক ত্বকে ঘন ও ভারি ক্রিম মাখা যায়।
ত্বকচর্চার রুটিনে আর কিছু না থাকুক— সানস্ক্রিন বাধ্যতামূলক। সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগনি রশ্মি ত্বকে দাগ, কালচে ছোপ এবং অকালবার্ধক্যের চিহ্ন আনে। তাই শুধু বাইরে বেরোনোর দিন নয়, প্রতিদিন সকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার অভ্যাস করা উচিত। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে বা ঘাম হলে একাধিকবার সানস্ক্রিন মাখতে হবে মুখে। সানস্ক্রিন মাখার ধাপ রুটিনের একেবারে শেষে থাকে।
আর নিয়ম মেনে চলা এবং পর্যবেক্ষণ করাই আসল। এই ধাপে এসে নিজের ত্বককে বুঝতে শিখতে হবে। আবহাওয়া, বয়স, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, হরমোনের হেরফের, মানসিক চাপ, অসুস্থতার কারণে ত্বকের প্রয়োজন পাল্টাতে থাকে। সেই সময়ে ধাপগুলোও এদিক-ওদিক হবে বা পণ্য পাল্টাতে পারে।
তাই এক বছর আগে যে রুটিন ভালো কাজ করেছে, সেটিই সারাজীবন একইভাবে ব্যবহার করতে হবে— এমন কোনো নিয়ম নেই। প্রয়োজনে সমস্যা বুঝতে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
Publisher & Editor