মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

মাথার ত্বকে বারবার খুশকি ফিরে আসছে? যেভাবে প্রতিরোধ করবেন

প্রকাশিত: ০৭:৩৪, ২৫ আগস্ট ২০২৬ |

ঘরোয়া পদ্ধতি, বারবার শ্যাম্পু পরিবর্তন কিংবা চুলে তেল মেখেও অনেক সময় রেহাই মেলে না খুশকির যন্ত্রণা থেকে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, খুশকিকে কেবল সাধারণ শুষ্কতা বা অপরিচ্ছন্নতা মনে করাই সবচেয়ে বড় ভুল।

প্রকৃতপক্ষে, এটি মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল, অণুজীব ও প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সূক্ষ্ম ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার একটি জটিল স্বাস্থ্যগত লক্ষণ।
খুশকির নেপথ্যে ক্ষুদ্র অণুজীব: ম্যালাসেজিয়া
খুশকির মূল কারণ হলো ম্যালাসেজিয়া নামক এক ধরনের ইস্ট-সদৃশ অণুজীব। এটি ক্ষতিকর কোনো সংক্রমণ নয়, বরং সবার মাথার ত্বকেই প্রাকৃতিকভাবে বাস করে। তাপ, আর্দ্রতা, ঘাম, অতিরিক্ত তেল (সিবাম), দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে এই ইস্ট দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।

কিভাবে সমস্যা তৈরি হয়
জ্বালাপোড়া ও খুশকি: ইস্টটি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল খেয়ে ফেলে এবং তা ভেঙে অস্বস্তিকর উপজাত তৈরি করে। এতে মাথার ত্বকে চুলকানি ও প্রদাহ হয় এবং ত্বকের কোষ দ্রুত ঝরে পড়ে খুশকির রূপ নেয়।

খুশকি কেন বারবার ফিরে আসে
বেশিরভাগ শ্যাম্পু কেবল সাময়িকভাবে মাথার ত্বকের উপরের ফ্লেক বা খোসা ধুয়ে ফেলে। কিন্তু ভেতরের অণুজীবগত ভারসাম্যহীনতা দূর না হওয়ায় সুযোগ পেলেই খুশকি আবার ফিরে আসে।

তৈলাক্ত খুশকি বনাম শুষ্ক খুশকি
খুশকি মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে—তৈলাক্ত খুশকি ও শুষ্ক খুশকি। অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদন এবং ইস্টের বংশবৃদ্ধির কারণে তৈলাক্ত খুশকির সৃষ্টি হয়। এই ধরনের খুশকির আঁশগুলো সাধারণত হলদে বা আঠালো প্রকৃতির হয় এবং চুলকানোর সময় নখের নিচে আটকে যায়। এতে চুল ধোয়ার মাত্র ১-২ দিনের মধ্যেই মাথার ত্বক পুনরায় তৈলাক্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, শুষ্ক খুশকি সাধারণত ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা কিংবা ম্যালাসেজিয়া-জনিত প্রদাহের ফলে দেখা দেয়।

এর আঁশগুলো হয় মিহি, সাদা ও গুঁড়োর মতো, যা সহজেই কাঁধে ঝরে পড়ে। এই সমস্যাটি কেবল চুলে তেল মেখে সমাধান করা সম্ভব নয়।
গ্রীষ্মকালে কেন খুশকি বাড়ে
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম এবং সিবাম উৎপাদন বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় হেলমেট বা টুপি পরা, ভেজা চুল বেঁধে রাখা এবং ঘাম জমে থাকা ম্যালাসেজিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।

সঠিক শ্যাম্পু ও প্রতিকার
কেবল চটজলদি সমাধান না খুঁজে খুশকির মূল কারণ দূর করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি:

কার্যকর উপাদান খুঁজুন: শ্যাম্পু কেনার সময় পিরোকটোন ওলামাইন এর মতো ছত্রাক-রোধী উপাদান আছে কিনা দেখে নিন। এটি ত্বকের গভীরে গিয়ে ইস্টের অতিরিক্ত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। খুশকি কমে গেলেও শ্যাম্পু ব্যবহার একদম বন্ধ করবেন না, কারণ এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বারবার ফিরে আসা সমস্যা।

প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় অভ্যাস
১।অতিরিক্ত ঘাম হলে বা নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন।

২। টুপি, হেলমেট ও চুলের অনুষঙ্গ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।

৩।ভেজা চুল দীর্ঘ সময় বেঁধে রাখবেন না।

৪। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor