ফ্রান্সের জনপ্রিয় ডিজে ভিনসেন্ট বেলোরজে, যিনি ডিজে কাভিনস্কি নামে বেশি পরিচিত ছিলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্যারিসের নিজের বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার ফ্রান্সের প্রসিকিউটররা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রসিকিউটররা জানান, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকারীরা কোনো সন্দেহজনক বিষয় খুঁজে পাননি। তাই কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে প্যারিসের দৈনিক ‘লে প্যারিজিয়েন’ তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে।
আগামী শুক্রবার ৩১ জুলাই তার ৫১ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। তার মৃত্যুতে ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্যাথরিন পেগার শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘কাভিনস্কির আকস্মিক মৃত্যুতে ফ্রান্স তার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী শিল্পীদের একজনকে হারাল।’ তিনি আরো বলেন, ‘তার সংগীত একদিকে নাচের জন্য উপযোগী, অন্যদিকে পুরনো স্মৃতি ও আবেগ জাগিয়ে তোলে।
এ কারণেই তার গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম এবং দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।’
ভিনসেন্ট বেলোরজে প্যারিসের উপকণ্ঠ সাঁ-দেনিতে বেড়ে ওঠেন। ছোটবেলায় তিনি নিজেই পিয়ানো বাজানো শেখেন। ২০০০ সালের শুরুর দিকে তিনি সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ফরাসি ইলেকট্রনিক সংগীতের জনপ্রিয় দল ডাফট পাঙ্কের সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করেন।
পাশাপাশি ইলেকট্রো সংগীতশিল্পী সেবাস্তিয়াঁসহ আরো অনেক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন। কাভিনস্কি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন ২০১০ সালে প্রকাশিত তার জনপ্রিয় একক গান ‘নাইটকল’-এর জন্য। তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে এই গানটির মাধ্যমে। গাঢ় আবহের এই সিন্থ-ওয়েভ গানটি ২০১১ সালে হলিউড পরিচালক নিকোলা উইন্ডিং রেফনের আলোচিত সিনেমা ‘ড্রাইভ’-এ গানটি ব্যবহার করা হয়। সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রায়ান গসলিং। এরপর বিশ্বজুড়ে নতুন শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন কাভিনস্কি।২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানেও কাভিনস্কি তার এই বিখ্যাত গান পরিবেশন করেন।
কাভিনস্কির সংগীতের বিশেষত্ব ছিল ১৯৮০-এর দশকের সিনেমা, ভিডিও গেম এবং ইলেকট্রনিক সাউন্ডের প্রভাব। তার তৈরি চরিত্র ‘কাভিনস্কি’ ছিল তার শিল্পী পরিচয়ের একটি অংশ। ২০০৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে বেলোরজে বলেছিলেন, ‘কাভিনস্কি এমন একটি চরিত্র, যাকে আমি নিজেই তৈরি করেছি। কারণ শুধু নিজের ছবি অ্যালবামের প্রচ্ছদে ব্যবহার করা আমার সঙ্গে মানায় না।’ তিনি জানান, কাভিনস্কি চরিত্রটি ছিল এক ধরনের কল্পিত গল্পের অংশ। তার বর্ণনা অনুযায়ী, এই চরিত্রটি একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং পরে নীল চামড়া ও লাল চোখ নিয়ে এক ‘জীবিত মৃত’ ডিজে হিসেবে ফিরে আসে।
বেলোরজে আরো বলেছিলেন, নিজের মুখের চেয়ে একটি কল্পিত চরিত্রের মাধ্যমে নিজের সংগীত ও গল্প তুলে ধরতেই তিনি বেশি আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন গান তৈরি করি, তখন ছোটবেলায় দেখা সিনেমা ও টেলিভিশনের বিভিন্ন দৃশ্য আমার মনে ভেসে ওঠে। সেই স্মৃতি ও অনুভূতিগুলো একসঙ্গে মিলিয়েই আমি এই গল্প তৈরি করেছি।’ কাভিনস্কির এই আলাদা ধরনের শিল্পী পরিচয়, রহস্যময় চরিত্র এবং ১৯৮০-এর দশকের আবহ তৈরি করা সংগীত তাকে ইলেকট্রনিক সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পীতে পরিণত করে।
Publisher & Editor