ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের রাজনৈতিক ও সামরিক দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জার্মানির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক বিশ্লেষক। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে এ শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে ন্যাটোর ভেতরের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করছে, তাতে ইউরোপকে দ্রুত নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পথ খুঁজতে হবে।
আনাদোলু অ্যাজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জার্মান সামরিক বিশ্লেষক টমাস উইগোল্ড বলেন, ‘ন্যাটো এখনই পুরোপুরি ভেঙে পড়বে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে–তা কেউ জানে না। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো ছেড়ে যাওয়ার নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন প্রশাসনিকভাবে ন্যাটোকে দুর্বল করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই ন্যাটোকে দ্রুত কোনো না কোনোভাবে এর ক্ষতিপূরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’
টমাস উইগোল্ড আরও বলেন, ‘আপনি যদি সামরিক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা সবাই বলবেন যে মাঠপর্যায়ে সামরিক সহযোগিতা দারুণ চলছে। কিন্তু রাজনৈতিক স্তরে যে সমস্যা আছে, তা স্পষ্ট। এমনকি এখন সামরিক ক্ষেত্রেও ফাটল দেখা যাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো, গত ২ জুলাই ইউরোপে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডিং জেনারেলকে হঠাৎ পরিবর্তনের ঘটনা। এর থেকে বোঝা যায়, সামরিক পর্যায়েও সহযোগিতা আগের মতো স্বাভাবিক গতিতে চলছে না।’
জার্মান এই বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল মনোযোগের বিষয় হচ্ছে– আমেরিকা তাদের অংশগ্রহণ কমিয়ে দেওয়ার পরও কীভাবে ইউরোপের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কিছুদিনের জন্য এই জোটে ধরে রাখতে ইউরোপীয়রা ঠিক কী করতে পারে।
টমাস উইগোল্ড বলেন, ‘আমেরিকা যেসব সামরিক সুবিধা বা সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেবে, ইউরোপীয়দের নিজেদের উদ্যোগে সেগুলো তৈরি করতে হবে। এই শূন্যস্থান পূরণ করেই ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশকে শক্তিশালী করা সম্ভব। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই কাজ রাতারাতি করা যাবে না। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সব সময়ই বলেন, এটি একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সহজ কথায়, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে তারা কখন কোন সুবিধাগুলো কমাতে চায়। আর ইউরোপীয়দেরও নির্দিষ্টভাবে বলতে হবে তারা কখন এবং কীভাবে সেই সামরিক সক্ষমতাগুলো নিজেরা তৈরি করে নেবে। তাহলে দুই পক্ষের মধ্যে একটা সঠিক সমন্বয় করা সম্ভব হবে।’
বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত জার্মানি
ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে নেওয়ার এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বার্লিন জানিয়েছে, তারা ন্যাটোর ভেতর এখন আরও বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। এই উদ্দেশ্যে জার্মানি সামরিক ব্যয় বাড়ানোর এবং নতুন সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
জার্মান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং অন্য ইউরোপীয় নেতারা একটি শক্তিশালী ও ‘ইউরোপ-নির্ভর’ ন্যাটো গড়ে তোলার অঙ্গীকার নতুন করে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে জোটের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রতিও সমর্থন জানাবেন।
জার্মান চ্যান্সেলরের কার্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, গত ১২ মাসে শুধু ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোই প্রতিরক্ষা ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে জার্মানি একাই তার প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ২৫ বিলিয়ন ইউরো বাড়িয়েছে। এর ফলে এখন জার্মানির মোট সামরিক বাজেট দাঁড়িয়েছে ১২৪ বিলিয়ন ইউরোতে। ২০২২ সালের পর থেকে হিসাব করলে দেখা যাবে, জার্মানি তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করেছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
Publisher & Editor