নিউইয়র্কে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৫ জুন জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মুসলিম কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মাহফিলে কারবালার শোকাবহ ইতিহাস, হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) সভাপতি গিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে ও মাওলানা মুহাম্মদ ওলিউল্লাহ আতিকুর রহমানের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দ মাসহুক মঈন উদ্দীন এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ আহলে বায়েত জামে জমসিদের ইমাম ও খতিব ড. সাইয়্যেদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানী বদরপুরী।
বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা মুফতি ড. সাইয়্যেদ আনসারুল করিম আল আজহারী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ’র সভাপতি শেখ আবদুর রহীম মাহমুদ ও মহাসচিব মাওলানা আনোয়ারুল হক কাদেরী।
এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সৈয়দ ফয়েজ হারামাইন খলিল উল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেবিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, নিউইয়র্কের ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদু।
মাহফিলে বক্তারা বলেন, কারবাবালায় যে ত্যাগের মহিমার উদাহারণ সৃষ্টি হয়েছিল এ বিয়োগাত্মক ঘটনা মুসলিম জাহানকে এখনো কাঁদিয়ে বেড়ায়। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররমের কারবালার ঘটনা সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইমাম হোসাইন (আ.) অন্যায় ও জুলুমের কাছে মাথা নত না করে সত্যের পথে অবিচল থাকার যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, তা আজও মানবতার জন্য অনুকরণীয়।
বক্তারা আরও বলেন, কারবালার আদর্শ মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে, ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিতে এবং আদর্শ জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। কারবালার মহান আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গিয়াস আহমেদ বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়। তিনি বলেন, পবিত্র আশুরা জুলুম ও অবিচারের বিপরীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় মানবজাতিকে শক্তি ও সাহস জোগাবে। মাহফিলের শেষ পর্বে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
Publisher & Editor