মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য কমলে কী কী সমস্যা হয়?

প্রকাশিত: ০৭:৫৭, ২৩ জুন ২০২৬ |

বাইরে কখনো ভ্যাপসা গরম, আবার কখনো হুটহাট বৃষ্টি। আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় আমাদের শরীরে নানারকম নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অতিরিক্ত গরমে ঘেমে যাওয়ার কারণে এই সময়ে যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়, তা হলো শরীরে ‘ইলেকট্রোলাইটের’ ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।
ইলেকট্রোলাইট হলো সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। এগুলো আমাদের শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং পেশি, স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ঘামের সাথে শরীর থেকে এই খনিজগুলো বেরিয়ে গেলে বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অনেক সময় এর লক্ষণগুলো স্পষ্ট না হওয়ায় আমরা অবহেলা করি। চলুন, জেনে নিই শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি বোঝার ৭টি প্রধান লক্ষণ।
অনবরত মাথাব্যথা
ওষুধ খাওয়ার পরও যদি মাথার যন্ত্রণা না কমে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। শরীরে খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না।

ফলে মাইগ্রেনের মতো সমস্যাও হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
পেশিতে টান ধরা বা আড়ষ্টতা
কোনো ভারী কাজ না করার পরও যদি হঠাৎ পায়ে বা পিঠের পেশিতে টান ধরে, তবে বুঝতে হবে শরীর পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগছে। পেশি আড়ষ্ট হওয়া বা কাঁপুনি ওঠাও এর অন্যতম লক্ষণ।

বুক ধড়ফড় করা
ক্যালশিয়াম ও পটাশিয়াম আমাদের হার্টের স্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। শরীরে এই উপাদানগুলোর মাত্রা কমে গেলে হৃৎস্পন্দনের ছন্দ বিগড়ে যায় এবং হঠাৎ বুক ধড়ফড়ানির মতো অস্বস্তি তৈরি হয়।

মাথা কাজ না করা বা মনোযোগের অভাব
কাজে মন না বসা, বারবার ছোটখাটো ভুল হওয়া কিংবা পরিষ্কারভাবে চিন্তাভাবনা করতে না পারা—ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতির বড় লক্ষণ। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার জন্য এই খনিজগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি শরীর অলস ও প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে, তবে বুঝতে হবে কোষগুলো প্রয়োজনীয় খনিজের অভাবে ভুগছে। ঘামের মাধ্যমে খনিজ বের হয়ে যাওয়ায় শরীর ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে।

বমি ভাব বা গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি
কেবল গ্যাস্ট্রিকের কারণেই নয়, শরীরে খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হলেও প্রচণ্ড গা গুলানো বা বমি বমি ভাব হতে পারে।

যতই পানি খান, পিপাসা না মেটা
শরীরে পানির ভারসাম্য ধরে রাখে এই খনিজগুলো। এগুলোর ঘাটতি হলে শরীর দ্রুত জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। ফলে অসম্ভব জল পিপাসা পায়। তখন যতই পানি পান করা হোক না কেন, মনে হয় তৃষ্ণা যেন কিছুতেই মিটছে না।

গরমে সুস্থ থাকতে শুধু সাধারণ পানি না খেয়ে মাঝেমধ্যে ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা খাবার স্যালাইন খাওয়া উচিত। এতে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য দ্রুত ফিরে আসে।

সূত্র : আনন্দবাজার

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor