ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রেক্ষাপটে দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার হাজিরা দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার আগেই তিনি কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তরে উপস্থিত হন।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অভিষেকের মালিকানাধীন কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর নাম উঠে আসে। কোম্পানিটির আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসার পরই তাকে পুনরায় তলব করা হয়। এর আগেও একই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, এদিন অভিষেকের হাজিরাকে কেন্দ্র করে সিজিও কমপ্লেক্সে অতীতের মতো বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়নি। আগে তিনি সেখানে এলে গোটা এলাকা ঘিরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হতো এবং সাংবাদিকদের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হতো।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড় দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে গত মাসে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এরপর থেকেই রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলটি।
এদিকে দলের ভেতরেও তৈরি হয়েছে একটি ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী। তাদের দাবি, তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে। পাশাপাশি তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সক্রিয় নেতৃত্বের পরিবর্তে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এর মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্তে রোববার তাকে সিআইডির মুখোমুখি হতে হয়। ওইদিন প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার পরদিনই তিনি ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন।
শুধু তাই নয়, মঙ্গলবারও তাকে তলব করেছে সিআইডি। একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সাইবার অভিযোগের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার বিকেলে সিআইডির একটি দল অভিষেকের বাসভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত নোটিশ পৌঁছে দেয়। একই দিন গভীর রাতে পুলিশ তার বাড়িতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে।
পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি মামলায় অভিষেকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সুমিত রায়কে খুঁজে বের করতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সই জালিয়াতির বিতর্কের সূত্রপাত। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে স্পিকারের কাছে পাঠানো তৃণমূলের একটি চিঠিকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে।
দলটির একাধিক বিধায়ক দাবি করেন, তারা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর না করলেও সেখানে তাদের নাম যুক্ত করা হয়েছে। কয়েকজনের নাম আবার ব্লক লেটারে লেখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিদ্রোহী দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল।
এই ঘটনার জেরে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
Publisher & Editor