সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রসিকিউশনে

প্রকাশিত: ০৭:০৬, ১৫ জুন ২০২৬ | ১১

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী আনুপাতিক হারে সাজা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে সাজা বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে আপিল করা হবে।

রায়ের পর্যালোচনার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ জাজমেন্ট পেয়েছি ৮০৯ পৃষ্ঠার। সকাল থেকে যেটুকুন সম্ভব হয়েছে, আমি এটা পড়েছি। প্রাথমিকভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে অত্যন্ত জুডিসিয়াল মাইন্ড অ্যাপ্লাই করে ট্রাইব্যুনাল এই জাজমেন্টটা দিয়েছেন। ৩০ জন আসামি ছিল, ৩০ জনকেই তারা কনভিক্ট করেছেন, ৩০ জনকেই তারা সেন্টেন্স দিয়েছেন। আমাদের আইনে বলা আছে যে, মৃত্যুদণ্ড অথবা অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী প্রোপোরশনেটলি তার শাস্তি হবে। তো আবু সাঈদ হত্যা মামলায় যারা সরাসরি গুলির অভিযোগ ছিল, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সেই গুলিতে যারা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছে, তাদেরকে যাবজ্জীবন দিয়েছে।

প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, যারা ইট-পাটকেল মেরেছে, লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেছিল বা যাদের এই টোটাল পার্টিসিপেশন যাদের ছিল, অভিযোগের প্রোপোরশনেট হারে তাদেরকেও শাস্তি দিয়েছে। কেউ কিন্তু শাস্তির বাইরে যায় নাই।

রায়ের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে এই মুহূর্তে দ্বিমতের সুযোগ দেখছেন না বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।

গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন হলেন—এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিনজন হলেন—তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। পৃথক ধারায় এ তিনজনের আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

বাকি ২৫ আসামির মধ্যে ৫ জনের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ জনের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১১ জনের ৩ বছরের সাজা হয়। অপর একজনের হাজতবাসের সময়কে দণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। দণ্ডিত ৩০ জনের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে ছয়জন কারাগারে আছেন, বাকি ২৪ জন পলাতক।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor