বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

নিউইয়র্কে সেভ দ্য পিপলের উদ্যোগে ৩শ’ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

প্রকাশিত: ০৩:৪৭, ০২ জুন ২০২৬ | ১৮

নিউইয়র্কে প্রায় তিনশ’ অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেভ দ্যা পিপল’। মানবিক এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১২শ মানুষের ঈদের খাবারের ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। গত ২১ মে নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় আয়োজিত এ খাদ্য প্যাকেজে চাল, ডাল, তেল, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ২০ ধরনের খাদ্যসামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সেভ দ্য পিপলের সিইও মাওলানা মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়া এবং অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। ঈদের আনন্দ শুধু সামর্থ্যবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সঙ্গেও সেই আনন্দ ভাগাভাগি করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটি নয়, নিউইয়র্কের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সেভ দ্য পিপল নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। আয়োজকরা জানান, নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের বহু পরিবার নীরবে সংগ্রাম করছে। বিশেষ করে অভিবাসী, কর্মহীন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ঈদের সময় খাদ্যের ব্যবস্থা করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এ বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ডিস্ট্রিক্ট-৩২ অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জে মোল্লা সানীসহ বিভিন্ন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। এ খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশি, স্প্যানিশসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেন। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, প্রবাস জীবনে অনেক পরিবার নীরবে কষ্ট করে যাচ্ছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি ধর্মীয় দায়িত্বও। ঈদকে সামনে রেখে এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরো বাড়িয়ে তোলে। ডিস্ট্রিক্ট-৩২ অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জে মোল্লা সানী বলেন, নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, বরং বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও মানবিক সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে।

কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে প্রবাসে বসবাসরত বহু অভাবী পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে এবং ঈদের আনন্দ আরো অর্থবহ হয়ে উঠবে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ এসব খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করেন। অনেকের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার অভিব্যক্তি। অনেক পরিবার আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ঈদের আগে এমন সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor