বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আফঈদার চাপ কমাতেই অধিনায়ক মারিয়া

প্রকাশিত: ০৩:৩১, ২৭ মে ২০২৬ | ১৩

গত বছরের শুরুতে কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দল থেকে বাদ পড়েন তখনকার অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এর ফলে নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় আফঈদা খন্দকারকে।

জাতীয় দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও আর্মব্যান্ড ছিল এই ডিফেন্ডারের হাতে। কিন্তু সম্প্রতি পারফরম্যান্সে ছেদ পড়েছে তার। অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপের তিন ম্যাচে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপেও সেরস ছন্দে ছিলেন না তিনি।

অধিনায়কত্বের আর্মব্র‍্যান্ডের সঙ্গে ডিফেন্স সামলানোর চাপটা হয়তো নিতে পারছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। যে কারণে হ্যাটট্রিক সাফ চ্যাম্পিয়ানশিপ মিশনের আগে নতুন অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞ মারিয়া মান্দাকে বেছে নিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। এতে হঠাৎ করে কেন তিনি অধিনায়ক বদল করলেন সেই প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ব্রিটিশ এই কোচ, ‘হ্যাঁ, আফঈদা তরুণ এবং সে অনেক চাপ সামলেছে।

তার এখন নিজের খেলায় মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এটি পুরোপুরি কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং দলের ভালোর জন্য নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন আফঈদা। তার অধীনে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে মূল পর্ব নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ।

তার নেতৃত্বে ১৪ ম্যাচের মধ্যে তিনটি জয় এবং দুটি ড্রয়ের পাশাপাশি হার ৯টিতে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তার অধীনেই সাফের শিরোপা এবং এএফসি আসরের মূল পর্বে খেলেছিল জুনিয়র দল। ২০২২ সালে প্রথমবার সাফ জেতার পরের বছরই ফুটবল ছেড়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। সেন্টারব্যাক পজিশনে আঁখির অভাব পূরণে ওই সময় গুরুদায়িত্ব চাপে তরুণ আফঈদার কাঁধে। বয়সভিত্তিক ফুটবল মাতিয়ে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর থেকেই এই পজিশনে নতুন কাউকে আর ভাবতে দেননি আফঈদা। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারছিলেন না তিনি। যে কারণে অধিনায়কত্ব হারাতে হয়েছে তাকে।

তার পরিবর্তে মারিয়াকে বেছে নিয়েছেন বাটলার। দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলছেন এই মিডফিল্ডার। ডিফেন্ডারদের লাইনের ঠিক ওপর থেকে প্রতিপক্ষের বক্স পর্যন্ত সমান তালে দম ধরে রেখে দৌড়ানোতে দক্ষ মারিয়া। বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে সিনিয়র জাতীয় দল, যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন কলসিন্দুরের এই মেয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবেই ধরা হয় তাকে। এবার অধিনায়ক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে তার।

২০২২ এবং ২০২৪ সালে টানা দুইটি সাফ জয়ের অন্যতম কারিগরি ছিলেন মারিয়া। নিচ থেকে খেলা তৈরি করে আক্রমণে সুর গেঁথে দেওয়ার কাজটা তাকেই করতে হবে। কোচ পিটার বাটলারও তাই ভরসা রাখছেন তার ওপর। কোচ বলেন, ‘মারিয়া খুবই লড়াকু মানসিকতার খেলোয়াড় এবং পুরো দলের মধ্যেই সে সম্মানিত। সে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নেতৃত্ব দেবে এবং আমি জানি, অন্যদের কাছ থেকেও সে সম্মান আদায় করে নেবে।’

২০১১ সালের বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে মারিয়ার উঠে আসা। তিন বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়ানশিপে প্রথমবার বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পান তিনি। এরপর ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটা বয়সভিত্তিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নসারথি হয়েছেন মারিয়া। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফের তার অধিনায়কত্বেই শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor