শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

‘মৃণাল সেনের প্রচারবিমুখতা নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে’

প্রকাশিত: ০৮:০৪, ১৫ মে ২০২৬ |

চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের জীবন ও দর্শন পর্দার নেপথ্য থেকে চঞ্চল চৌধুরীর ব্যক্তিজীবনে এক গভীর ছাপ ফেলেছে। কিংবদন্তি এই নির্মাতার জীবনীচিত্র ‘পদাতিক’-এ অভিনয় করতে গিয়ে চঞ্চল কেবল একজন অভিনেতা হিসেবে নন, বরং একজন মানুষ হিসেবেও ঋদ্ধ হয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে মৃণাল সেনের জন্মবার্ষিকী ঘিরে নিজের সেই অনন্য অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী।

চঞ্চল চৌধুরী জানান, নব্বইয়ের দশকে পাবনার গ্রামের বাড়িতে থাকাকালীন ভিসিআরে মৃণাল সেনের ছবির সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব ছবির গভীরতা তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মতে, উপমহাদেশের সিনেমা বলতে সত্যজিৎ, মৃণাল ও ঋত্বিক এই ত্রয়ীর নামই সবার আগে আসে। তবে মৃণাল সেনের নির্মাণশৈলী ছিল একেবারেই স্বতন্ত্র।

সৃজিত মুখার্জির ‘পদাতিক’ ছবিতে মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব যখন পান, তখন চঞ্চল কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘মৃণাল সেন একজন মহীরুহ। তার নামভূমিকায় অভিনয় করাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। শুরুতে মনে হয়েছিল আমি পারব না, সৃজিতদাকে মানাও করেছিলাম। তবে সৃজিতদা আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন।’

চরিত্রটির জন্য কেবল প্রস্থেটিক মেকআপ নয়, মৃণাল সেনের ব্যক্তিত্ব ও চালচলন আয়ত্ত করতে চঞ্চলকে প্রচুর পড়াশোনা ও গবেষণা করতে হয়েছে। অভিনেতার কথায়, ‘বই পড়ে তাকে যতটুকু চিনেছি, তার চেয়ে বেশি চিনেছি তার সিনেমাগুলো আবার দেখে। তার জীবনদর্শন, আপসহীন মানসিকতা এবং প্রচারবিমুখতা আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।’

মৃণাল সেনের সিনেমা মানেই শ্রমজীবী মানুষ আর সমাজবাস্তবতার প্রতিফলন। চঞ্চল মনে করেন, আজকের যুগে দাঁড়িয়ে মৃণাল সেনের মতো করে রাজনৈতিক বক্তব্য সিনেমায় তুলে ধরা বেশ জটিল। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে নিজের আদর্শ প্রকাশ করতেন, তা বর্তমান সময়ে বিরল।

ব্যক্তিগত জীবনের লড়াইয়ের সঙ্গে মৃণাল সেনের জীবনসংগ্রামের মিল খুঁজে পান চঞ্চল। আর্থিক সংকট, ব্যর্থতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর যে গল্প ‘পদাতিক’ ছবিতে রয়েছে, তা এই অভিনেতাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor