সোমবার, ১১ মে ২০২৬

হাঁপানি কেন হয়, লক্ষণ ও চিকিৎসা কী

প্রকাশিত: ০২:৫৬, ১১ মে ২০২৬ |

৫ মে ছিল বিশ্ব হাঁপানি দিবস (ওয়ার্ল্ড অ্যাজমা ডে)। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘হাঁপানি রোগীদের প্রদাহবিরোধী ইনহেলারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা—একটি জরুরি প্রয়োজন’। বিশ্ব হাঁপানি দিবসের সূচনা হয় ১৯৯৮ সালে। জনসচেতনতা বাড়াতে বিশ্বে মে মাসের প্রথম মঙ্গলবার পালিত হয় দিবসটি।

কী ধরনের রোগ
হাঁপানি শ্বাসনালির দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ। বিশ্বজুড়ে ২৬ কোটির বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত। প্রতিবছর সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের কারণে।

এসব মৃত্যুর ৮০ শতাংশের বেশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় ঘটে। বাংলাদেশে ৭০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ হাঁপানির সমস্যায় ভুগছেন।

১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। শহরের তুলনার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।

কীভাবে বুঝবেন
হাঁপানির মূল উপসর্গগুলো হলো শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া, বুকে চাপ অনুভূত হওয়া বা দম বন্ধ ভাব। বছরে বেশ কয়েকবার, বিশেষ করে অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলেই এসব উপসর্গ শুরু হয়ে যায়।

হাঁপানির রোগীরা বিভিন্ন পদার্থের প্রতি অতি সংবেদনশীল। সেসবের সংস্পর্শে তাঁদের উপসর্গ বাড়ে। হাঁপানিতে আক্রান্ত হলে বুকের এক্স-রে করানো উচিত। রক্তে অ্যালার্জির মাত্রা, ফেনো, স্পাইরোমেট্রি বা শ্বাসের পরীক্ষা ইত্যাদি করাতে হতে পারে।

কেন হয়
অ্যালার্জেন—ঘরে কিংবা বাইরে মাইট (মাকড়সা–জাতীয় ক্ষুদ্র জীব), ছত্রাক, ফুলের রেণু, পশুপাখির লোম বা পাখা ইত্যাদি জিনিসের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা।

ধোঁয়া, ধুলা, ঠান্ডা আবহাওয়ার নানা তারতম্য উত্তেজক হিসেবে কাজ করে। ফ্লু বা ভাইরাসের সংক্রমণ উপসর্গ বাড়ায়।

ব্যথানাশক রক্ত তরল করার ওষুধ উপসর্গ বাড়াতে পারে।

চিকিৎসা
হাঁপানির চিকিৎসা জীবনব্যাপী চলবে, এটি কখনো পুরোপুরি সেরে যায় না। এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। হাঁপানির ওষুধ প্রধানত দুই প্রকার—

১. উপশমকারী—যেমন সালবিউটামল।

২. প্রতিরোধকারী—যেমন লিউকোট্রিন অ্যান্টাগনিস্ট, স্টেরয়েড ইনহেলার, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসনালি সংকোচনরোধক ইনহেলার, ডক্সিসাইক্লিন ইত্যাদি।

এ ছাড়া রোগীকে এ রোগের সঙ্গে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে শিখতে হবে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor