বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

পুলিৎজার পুরস্কার এবার ট্রাম্পময়

প্রকাশিত: ০৭:২০, ০৫ মে ২০২৬ |

সাংবাদিকতার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘পুলিৎজার পুরস্কার’ সোমবার (৪ মে) ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর পুলিৎজার বলতে গেলে ‘ট্রাম্পময়’! যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং পারিবারিক ব্যবসা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিচারকদের নজর কেড়েছে। এ বছরের বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম।

এ বছর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি ভিন্ন বিভাগে এই পুরস্কার জয় করে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং মেটার এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে রয়টার্সের ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলো বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

রয়টার্স তাদের প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছে ন্যাশনাল রিপোর্টিং বা জাতীয় সংবাদ পরিবেশন বিভাগে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কীভাবে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক শত্রুদের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছেন, সেই বিষয়ে এক ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্সের সাংবাদিকদের এই সম্মান দেওয়া হয়। নেড পার্কার, লিন্ডা সো, পিটার আইজলার এবং মাইক স্পেক্টরের করা এই প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে ট্রাম্পের এক নজিরবিহীন ‘শত্রুনিধন’ অভিযানের কথা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রাম্প নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে শত শত ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন, যার মধ্যে ছিলেন ফেডারেল প্রসিকিউটর, সামরিক কর্মকর্তা, প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তা, ল ফার্ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়েছে কীভাবে তিনি রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা, প্রাক্তন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করা এবং তার এজেন্ডার বিরোধী সরকারি কর্মচারীদের বরখাস্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ডানপন্থী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং রিপাবলিকান কর্মকর্তাদের সহায়তায় এই প্রতিহিংসার মিশনকে আরও জোরালো করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, পুলিৎজার পুরস্কার একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার, যা সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সঙ্গীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রদান করা হয়। এ পুরস্কারটিক সাংবাদিকতার নোবেল হিসেবে খ্যাত। এটি ১৯১৭ সালে জোসেফ পুলিৎজারের উদ্যোগে চালু হয় এবং প্রতি বছর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এই পুরস্কার প্রদান করে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor