রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

অ্যাডেনোমায়োসিস: নারীদের যন্ত্রণা–বেদনার আরেক নাম

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ০৩ মে ২০২৬ |

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি। কিন্তু কিছু রোগ এখনো নীরব রয়ে গেছে অবহেলায়, অজ্ঞতায়, কখনো লজ্জায়। এমন একটি অবহেলিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অ্যাডেনোমায়োসিস। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর এপ্রিল পালিত হয় অ্যাডেনোমায়োসিস সচেতনতা মাস হিসেবে। এর লক্ষ্য, রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।

অ্যাডেনোমায়োসিস কী
অ্যাডেনোমায়োসিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম) জরায়ুর পেশির ভেতরে প্রবেশ করে। ফলে জরায়ু বড় হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এটি মূলত ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

প্রধান লক্ষণগুলো কী
অ্যাডেনোমায়োসিসের লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং ক্রমেই তীব্র হয়। মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা হতে পারে। অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ হয়। আর মাসিকের আগে বা পরে স্পটিং হয়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি তলপেটের ব্যথা হতে পারে। যৌন মিলনের সময় ব্যথা হয়। কখনো বন্ধ্যত্বও হতে পারে।

কেন দেরিতে ধরা পড়ে
অ্যাডেনোমায়োসিসকে প্রায়ই সাধারণ ‘ব্যথাযুক্ত মাসিক’ বা ফাইব্রয়েডের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। আবার অনেক নারী মাসিকের ব্যথাকে স্বাভাবিক মনে করে চিকিৎসকের কাছে যান না। ফলে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়, যখন উপসর্গ অনেক বেশি তীব্র হয়ে যায়।

মানসিক ও সামাজিক প্রভাব
অ্যাডেনোমায়োসিস শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, এটি নারীর মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা ও পারিবারিক জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ একজন নারীকে ক্লান্ত, হতাশ এবং কখনো বিষণ্ন করে তুলতে পারে।

কেন সচেতনতা জরুরি
‘ব্যথা সহ্য করা স্বাভাবিক’, এই ভুল ধারণা ভাঙতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসা সহজ হয়, অপ্রয়োজনীয় দেরি ও জটিলতা এড়ানো যায়। তাই নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করতে হবে। গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা প্রয়োজন। পরিবার ও সমাজের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor