ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা কংগ্রেস সদস্যদের জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের মোট খরচ এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র বলছে, এই হিসাব বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম। কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মেরামতের খরচ ধরা হয়নি।
একটি সূত্রের মতে, ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ এবং ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ যোগ করলে প্রকৃত ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। যুদ্ধ শুরুর দিকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ৯টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাডার সিস্টেম ও সামরিক সরঞ্জামও ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে জর্ডানে থাকা একটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার রাডার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থাপনায় অনুরূপ রাডার ব্যবস্থা এবং সৌদি আরবের একটি ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-থ্রি সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে।
পেন্টাগনের কম্পট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট থ্রি কংগ্রেসের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে জানান, তিনি যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব দিয়েছেন তার বেশির ভাগই গোলাবারুদ খরচে গেছে। তবে এতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
এই হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসম্যান রো খান্না। শুনানিতে তিনি বলেন, ২৫ বিলিয়ন ডলারের এই অনুমান ‘পুরোপুরি ভুল’। এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর মাত্র ছয় দিনেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত সামরিক বাজেট অনুমোদনের অনুরোধও হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা দপ্তর।
গত সপ্তাহে বাজেট ব্রিফিংয়ে হার্স্ট বলেন, বিদেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। কারণ ভবিষ্যতে এসব স্থাপনা কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। তিনি আরও জানান, এসব মেরামতের খরচ ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ ভবিষ্যতে কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে এখনো মূল্যায়ন চলছে।
হার্স্ট বলেন, ‘আমাদের মিত্র দেশগুলোও হয়তো এই পুনর্গঠনের খরচের একটি অংশ বহন করতে পারে। তাই পুরো ব্যয় কত হবে, তার নির্ভুল হিসাব এখনো নেই।’ প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের এই ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি, যা যুদ্ধের আর্থিক চাপ কতটা বাড়ছে, তা স্পষ্ট করে। সূত্র: সিএনএন
Publisher & Editor