বিশ্বকাপের প্রতি আসরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে থাকে আলাদা উন্মাদনা। এবার দুই দেশ বিশ্বমঞ্চে পারফরম্যান্স করার আগেই রেকর্ড গড়ল, তাও আবার লিওনেল মেসি ও নেইমারের মতো তারকাকে ছাড়া। রেকর্ড ৪৮ দলের অংশগ্রহণে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই ১০৪ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টের জন্য ১৭০ জন ম্যাচ অফিশিয়ালের তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা, যা রেকর্ড। আর ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে সবচেয়ে বেশি ৯ জন করে প্রতিনিধি থাকছেন।
শুধু তাই নয়, দুই দেশ থেকে প্রধান রেফারি তিন জন করে। এই প্রথমবার দুই দেশ থেকে তিন জন করে প্রধান রেফারি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করবেন। আর্জেন্টিনার তিন প্রধান রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো, দারিও হেরেরা ও ইয়ায়েল ফ্যালকন পেরেজ। অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হুয়ান পাবলো বেলাত্তি, ম্যাক্সিমিলিয়ানো দেল ইয়েসো, গ্যাব্রিয়েল শাদে, ফাকুন্দো রদ্রিগেজ ও ক্রিস্টিয়ান নাভারো। ভিএআর অফিসিয়াল হার্নান মাস্ত্রাঙ্গেলো। এদের মধ্যে ফাকুন্দো তেল্লো একমাত্র রেফারি হিসেবে এর আগে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ২০২২ সালে।
ব্রাজিল থেকেও নিযুক্ত হওয়া তিন প্রধান রেফারি হলেন রামোন আবাত্তি আবেল, উইল্টন পেরেইরা সাম্পাইয়ো ও রাফায়েল ক্লাউস। সাইডলাইন ও ভিডিও বুথে থাকবেন ব্রুনো বসশিলিয়া, ব্রুনো পায়ার্স, দানিলো মামিস, রদ্রিগো ফিগুয়েইরেদো ও রাফায়েল আলভেস (অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) এবং রোডলফ তস্কি মারকুয়েস (ভিএআর)।
এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ জন ম্যাচ অফিশিয়াল অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের। সাত জন করে আছে আরেক আয়োজক মেক্সিকো ও ফ্রান্সের। সব মিলিয়ে ছয় ফেডারেশনের ৫০টি সদস্য দেশ থেকে ফিফা ৫২ জন প্রধান রেফারি, ৮৮ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ৩০ ভিএআর অফিশিয়ালের তালিকা করেছে, যা আগের আসরের চেয়ে ৪১ জন বেশি।
ফিফার চিফ রেফারিং অফিসার ও ফিফা রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইগি কোলিনা বলেছেন, ‘নির্বাচিত ম্যাচ অফিশিয়ালরা বিশ্বের সেরা। তারা অফিশিয়ালদের একটি বিশাল পুলের অংশ ছিলেন, যাদের গত তিন বছর ধরে চিহ্নিত করে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তারা সেমিনারে অংশ নিয়েছেন এবং ফিফা টুর্নামেন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে তাদের পারফরম্যান্স নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়েছে। নির্বাচিত অফিশিয়ালরা আমাদের ফিটনেস কোচ ও মেডিকেল স্টাফদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন ও সহায়তা পেয়ে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও পাবেন, যার মধ্যে ফিজিওথেরাপিস্ট এবং একজন মানসিক বিশেষজ্ঞও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো ৩১ মে যখন তারা মায়ামিতে পৌঁছাবেন, তখন তারা যেন শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকেন।’
কোলিনা আরও বলেন, ‘এ বছরের ফিফা বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন। এতে ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কাতার ২০২২-এর তুলনায় ৪১ জন বেশি ম্যাচ অফিশিয়াল নিয়ে এবারের ‘ফিফা টিম ওয়ান’ হবে সর্বকালের বৃহত্তম। তাদের প্রত্যেককে যেকোনো ম্যাচের জন্য নিযুক্ত হওয়ার এবং বিশ্বকাপের রেফারিং সফল করতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ছয়জন নারী ম্যাচ অফিশিয়াল নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি মূলত কাতার বিশ্বকাপে শুরু হওয়া একটি ধারাকেই অব্যাহত রেখেছে, কারণ আমাদের লক্ষ্য নারী রেফারিংয়ের আরও উন্নয়ন ঘটানো।’
গত বছরের উদ্বোধনী ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে রেফারি বডি ক্যামেরার সফল ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত স্ট্যাবিলাইজেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তি রিয়েল-টাইমে ধারণকৃত ফুটেজকে আরও মসৃণ করবে এবং দ্রুত নড়াচড়ার কারণে তৈরি হওয়া ঝাপসা ভাব কমিয়ে আনবে। এর ফলে সমর্থকরা রেফারির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মাঠের ঘটনাবলী সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ও উন্নত ধারণা পাবেন।
Publisher & Editor