গ্রীষ্মকালে ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কিছু অসতর্কতার কারণেও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
গরমের তীব্রতা বাড়তেই বাসা-বাড়িতে ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার (এসি)-এর ব্যবহার বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাইট, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের মতো প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক ডিভাইস। ফলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়া এখন অনেকের জন্যই স্বাভাবিক এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকেই অভিযোগ করেন, বিল কেন এত বেশি আসে তা বুঝতে পারেন না। আসলে গ্রীষ্মকালে ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কিছু অসতর্কতার কারণেও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তবে কিছু সহজ ও সচেতন পদক্ষেপ নিলে বিল অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
১. এসি ব্যবহারে সচেতনতা
এসি ব্যবহার করলে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির বদলে ২৪–২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন। মাত্র ১ ডিগ্রি বাড়ালেই প্রায় ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। পাশাপাশি এসির সঙ্গে ফ্যান ব্যবহার করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং এসির ওপর চাপ কম পড়ে। এছাড়া প্রতি ১৫ দিন পরপর এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখলে বিদ্যুৎ খরচ কমে।
২. প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখুন
দিনের বেলায় জানালা ও দরজার পর্দা টেনে রাখলে ঘরের ভেতরে তাপ কম ঢোকে। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরে সূর্যের আলো আটকানো জরুরি। বিকালে বাতাস চলাচলের সুযোগ দিলে ঘর স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা থাকে এবং লাইট ব্যবহারের প্রয়োজনও কমে।
৩. অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস আনপ্লাগ করুন
টিভি, চার্জার, মাইক্রোওয়েভ বা হোম থিয়েটারের মতো অনেক ডিভাইস স্ট্যান্ডবাই মোডে থেকেও বিদ্যুৎ খরচ করে। ব্যবহার শেষে এগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে প্লাগ খুলে রাখলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমানো যায়।
৪. ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্কতা
ফ্রিজ দেয়াল থেকে কিছুটা দূরে রাখুন, যাতে তাপ সহজে বের হতে পারে। গরমকালে ‘সামার মোড’ ব্যবহার করুন। এছাড়া বারবার ফ্রিজ খোলা এবং গরম খাবার সরাসরি ভেতরে রাখা থেকে বিরত থাকুন—এগুলো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায়।
৫. এলইডি বাতি ব্যবহার করুন
ফিলামেন্ট বাতি বা টিউবলাইটের পরিবর্তে এলইডি বাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কমে। কম শক্তিতে বেশি আলো দেওয়ার কারণে এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর বিকল্প।
সচেতন ব্যবহারই পারে বিদ্যুৎ বিল কমাতে। ছোট ছোট অভ্যাস বদলালেই মাস শেষে বড় সাশ্রয় সম্ভব।
Publisher & Editor