না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন হলিউড এবং ব্রডওয়ের শক্তিশালী অভিনেত্রী মেরি বেথ হার্ট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আলঝেইমার রোগে ভুগছিলেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) অভিনেত্রীর মেয়ে মলি শ্রেডার এবং স্বামী বিশিষ্ট লেখক ও পরিচালক পল শ্রেডার একটি যৌথ ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই শোকসংবাদটি সবাইকে জানান।
পরিবারের পক্ষ থেকে আবেগঘন বার্তায় জানানো হয়, ‘তিনি একজন সফল অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন একনিষ্ঠ স্ত্রী, বোন, মা এবং বন্ধু। প্রতিটি দায়িত্বই তিনি অত্যন্ত মমতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি আর কষ্ট পাচ্ছেন না এবং শান্তিতে আছেন—এই ভেবেই আমরা শোকের মাঝে সান্ত্বনা খুঁজছি।’
মেরি বেথ হার্ট ১৯৭১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত অভিনেতা উইলিয়াম হার্টের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পরিচালক পল শ্রেডারের জীবনসঙ্গিনী হন। ২০২৩ সালে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তাকে নিউইয়র্কের একটি বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
প্রখ্যাত এই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে ব্রডওয়েতে অভিষেকের পর তিনি তার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনবার সম্মানজনক টনি অ্যাওয়ার্ড-এর জন্য মনোনীত হন। ‘ক্রাইমস অব দ্য হার্ট’ নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি অবি পুরস্কার অর্জন করেন।
১৯৭৮ সালে উডি অ্যালেনের ড্রামা ফিল্ম ‘ইন্টেরিয়র্স’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে এবং প্রথম ছবিতেই তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। মেরি বেথ হার্ট অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাকোর্ডিং টু গার্প’, ‘স্লেভস অব নিউইয়র্ক’, ‘দ্য এজ অব ইনোসেন্স’, ‘সিক্স ডিগ্রিস অব সেপারেশন’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখ্য, মেরি বেথ হার্ট সবসময়ই গতানুগতিক চরিত্রের বাইরে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করতেন। ১৯৮৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে যেসব চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয় তার অর্ধেকই অর্থহীন। আমি কেবল আকর্ষণীয় চরিত্রগুলোই করার চেষ্টা করি।’ অবাক করার বিষয় হলো, তিনি প্রধান চরিত্রের চেয়ে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
এমন এক অভিনেত্রীর মৃত্যুতে হলিউড এবং থিয়েটার অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
Publisher & Editor