মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

প্রকাশিত: ০২:২৩, ০৩ মার্চ ২০২৬ |

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন পেশাজীবী, সাংবাদিক, নতুন প্রজন্ম ও কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করা হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক তার বক্তব্যে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ভিত রচিত হয়, যা পূর্ণতা পায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। তিনি ভাষা শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ সব শহীদ, ১৯৭১ সালের বীর শহীদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

কনসাল জেনারেল আরও বলেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির রাজনৈতিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাতৃভাষায় কথা বলা, লেখা ও চর্চার অধিকার প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০০০ সাল থেকে তা বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে।

কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার প্রবাসীসহ দেশের সব নাগরিকের ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংরক্ষণে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনা পর্বে নিউইয়র্কপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে এক সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : তুষার পিক। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor