শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চলন্ত গাড়িতে কেন আমাদের দুচোখ ঘুমে জড়িয়ে আসে?

প্রকাশিত: ০৭:২৯, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |

বাসে বা ট্রেনে উঠলেই কি আপনার দুচোখ ঘুমে জড়িয়ে আসে? অনেকে তো আবার বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেও ঝিমুতে থাকেন। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও কেন এমন হয়, তার চমৎকার কিছু কারণ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চলুন, জেনে নিই।

সেই চেনা দুলুনি
বাস বা ট্রেনের মৃদু কম্পন ও দুলুনি আমাদের মস্তিষ্কে একধরনের প্রশান্তি আনে।

ঠিক যেমন দোলনায় দুললে শিশুরা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে, বড়দের ক্ষেত্রেও এই রকিং মোশন একইভাবে কাজ করে।

মাতৃগর্ভের স্মৃতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটি জন্মগত যোগসূত্র আছে। মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুরা মায়ের চলাফেরা ও হৃদস্পন্দনের যে মৃদু কম্পন অনুভব করে, তার সঙ্গে চলন্ত গাড়ির দুলুনির মিল রয়েছে। অবচেতনভাবে আমাদের মস্তিষ্ক সেই নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশের কথা ভেবে শিথিল হয়ে যায়।

একঘেয়ে শব্দ বা হোয়াইট নয়েজ
গাড়ি চলার সময় একটানা একটা গুনগুন শব্দ কানে আসে। এই ধরনের একঘেয়ে শব্দ বাইরের অন্য সব আওয়াজকে আড়াল করে দেয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় হোয়াইট নয়েজ বলা যেতে পারে। এটি শ্রবণ উদ্দীপনা কমিয়ে দেয় এবং মস্তিষ্ককে বিশ্রাম নিতে প্ররোচিত করে।

বদ্ধ পরিবেশ ও আলোর অভাব
গাড়ির ভেতরের বদ্ধ পরিবেশ এবং বাইরের তীব্র আলোর অভাব আমাদের শরীরকে সংকেত দেয় যে এখন সক্রিয় থাকার প্রয়োজন নেই।

কোনো কাজ না থাকায় একঘেয়েমি চলে আসে, আর শরীর তখন বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ খোঁজে।

মানসিক ক্লান্তি
যাদের শরীরে আগে থেকেই ক্লান্তি জমে থাকে, তারা শান্ত পরিবেশ পাওয়া মাত্রই ঘুমিয়ে পড়েন। তবে যারা বাসে উঠে মোবাইল ঘাঁটেন বা বই পড়েন, তাদের মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকে বলে ঘুম সহজে তাদের কাবু করতে পারে না।

সহজ কথায় গাড়ির দুলুনি, একটানা শব্দ আর কোনো কাজ না থাকার আলস্য—সব মিলিয়ে আমাদের মস্তিষ্ককে ‘স্লিপ মোডে’ পাঠিয়ে দেয়।

সূত্র : এবিপি 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor