থাইল্যান্ডে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন। দেশের রক্ষণশীল, প্রগতিশীল ও জনপ্রিয়—এই তিন শিবিরের ত্রিমুখী লড়াইকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে থাই রাজনীতি। তবে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে আভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা, যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে।
গত ডিসেম্বরে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত চলাকালীন আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিকুল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সংকটকে পুঁজি করে জাতীয়তাবাদী আবেগের জোয়ারে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে তার দল ‘ভুমজাইথাই’।
অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থনপুষ্ট ‘ফেউ থাই’ পার্টিও কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। তবে থাকসিনের কন্যা পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটি বর্তমানে বেশ প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
জনমত জরিপে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে আছে সংস্কারপন্থী দল ‘পিপলস পার্টি’।
দেশটির অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মন জয় করেছে তারা। যদিও গত নির্বাচনে তাদের পূর্বসূরী দল জয়ী হয়েও সামরিক বাহিনী ও রক্ষণশীল সিনেটের বাধার কারণে সরকার গঠন করতে পারেনি, এবারও সেই একই শঙ্কার কথা বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ভোটের পাশাপাশি থাই নাগরিকদের আজ আরো একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ২০১৭ সালে সামরিক জান্তার তৈরি করা বিতর্কিত সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে তারা রায় দেবেন কি না, তা জানা যাবে আজই।
১৯৩২ সাল থেকে থাইল্যান্ডে ২০ বার সংবিধান পরিবর্তন হয়েছে, যার অধিকাংশই ছিল সামরিক অভ্যুত্থানের ফল। ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থিটিনান পংসুধিরাক বলেন, ‘এই নির্বাচন থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটানোর বড় পরীক্ষা। তবে পরিস্থিতি যে খুব দ্রুত শান্ত হবে, এমন আশা করা কঠিন।’
এদিকে ব্যাংককের রাজপথে হাজারো সমর্থক জমায়েত হয়ে গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। ২০ বছর বয়সী তরুণ ভোটার উইশ উইচুদাকর্নকুল বলেন, ‘আমরা এমন এক থাইল্যান্ড চাই যেখানে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে এবং গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে।
সূত্র : রয়টার্স
Publisher & Editor