শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান

প্রকাশিত: ১০:৪৮, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ |

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের ওপর আক্রমণ করার সুযোগ খুঁজছে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। 

গতকাল শুক্রবার তুর্কি সম্প্রচার মাধ্যম এনটিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আমি আশা করি তারা ভিন্ন কোনো পথ খুঁজে পাবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো ইসরায়েল বিশেষভাবে ইরানের ওপর আঘাত করার একটি সুযোগের সন্ধানে রয়েছে।’’

তুর্কি গণমাধ্যম ‘তুর্কি টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল—উভয় দেশই খুঁজছে কি না জানতে চাইলে ফিদান সুনির্দিষ্টভাবে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ইরান সফরের সময় তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে সরাসরি এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ফিদান বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন আগে যখন আমি তেহরানে গিয়েছিলাম, তখন বন্ধু হিসেবে তাদের এই প্রক্রিয়ার সবটুকু বলেছি। আর আপনারা জানেন, বন্ধুই তেতো সত্য কথা বলে।’’

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও এরদোয়ানের অবস্থান

ফিদানের এই সতর্কবার্তার আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরদোয়ান জানান, তুরস্ক ইরানে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং তারা প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেয়।

ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে, গতকাল শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান শত্রুদের যেকোনো আক্রমণকে ‘পুরোদমে যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কথার লড়াইয়ের মধ্যে এটিই ইরানের সর্বশেষ কঠোর বার্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও ট্রাম্পের মন্তব্য

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে নৌবাহিনীর একটি ‘আর্মাডা’ (বিশাল রণতরী বহর) পাঠিয়েছেন, যাদের লক্ষ্যবস্তু ইরান। গত সপ্তাহে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর দেখালেও, এখন তিনি আবারও তেহরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন।

ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘যদি মার্কিনীরা ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তবে আমরা জবাব দেব। আমরা আশা করি এই সামরিক প্রস্তুতি যেন প্রকৃত সংঘাতের উদ্দেশ্যে না হয়, তবে আমাদের সেনাবাহিনী যেকোনো ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। এই কারণেই ইরানে সবকিছু সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।’’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘এবার যেকোনো হামলাকে, তা সীমিত হোক বা বড়, কিংবা সুনির্দিষ্ট আক্রমণ, আমরা আমাদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করব এবং এর কঠিনতম জবাব দেব।’’

সাগরে যুদ্ধজাহাজের অবস্থান

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং এর সহযোগী জাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগর থেকে গতিপথ পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে আসছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ বড় ধরনের নৌবাহিনী মোতায়েন করেছিল। সূত্র: আল জাজিরা

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor