ছবি: সংগৃহীত
চীনের সঙ্গে কানাডার ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক সম্পর্কের কঠোর বিরোধিতা করে একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের নিজস্ব স্যোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ট্রুথ স্যোশালের এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কানাডা যদি বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো চুক্তি করে তবে দেশটিতে উৎপাদিত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করা হবে।
কানার প্রধানমন্ত্রীকে ‘গভর্নর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের জানান, মার্ক কার্নি যদি মনে করেন যে তিনি চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর জন্য কানাডাকে একটি ‘ড্রপ অব পোর্ট’ বা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করবেন, তবে তিনি মারাত্মক ভুল করছেন।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, চীন কানাডাকে ‘জ্যান্ত খেয়ে ফেলবে’ এবং এর ফলে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।
জাস্ট দ্য নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী কার্নির এই নতুন অংশীদারত্ব বেইজিংয়ের প্রতি তার আনুগত্য প্রকাশ করে যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার যে দাবি তিনি করেন তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই পদক্ষেপটি কানাডার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষুব্ধ করার মাধ্যমে দেশটির জন্য অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় বা বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে।
মূলত ট্রাম্পের এই অবস্থান তার প্রশাসনের ‘হার্ডনোজড রিয়ালিজম’ বা কঠোর বাস্তববাদী কৌশলেরই অংশ, যেখানে আমেরিকান স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈরি সম্পর্কের জেরে গত ১৬ জানুয়ারি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও চীনের নেতা শি জিনপিং। সেখানে চীন জানায়, আগামী ১ মার্চের মধ্যে কানাডীয় ক্যানোলা তেলের ওপর শুল্ক ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করেছে।
অন্যদিকে, অটোয়া চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ওপর ৬.১ শতাংশ হারে ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ ট্যাক্স বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের শুল্ক আরোপ করতে সম্মত হয়েছে।
Publisher & Editor