শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভের নেপথ্যে মোসাদের উসকানি দেখছে তুরস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৪৪, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নেপথ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কলকাঠি নাড়ছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছে তুরস্ক। আঙ্কারার দাবি, ইরানের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার চেষ্টা করছে তেল আবিব। 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক টেলিভিশন বক্তব্যে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। ফিদান বলেন, মোসাদ এখন আর তাদের তৎপরতা গোপন রাখছে না; তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ইরানি জনগণকে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য উসকানি দিচ্ছে। তবে আঙ্কারা ও তেহরানের মধ্যে সিরিয়া বা ইরাক ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষাকেই আঙ্কারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ইরান সংকটে বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে তেলের দাম ইরান সংকটে বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে তেলের দাম 
হাকান ফিদানের মতে, ইরান গত তিন দশক ধরে যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতি অনুসরণ করে আসছে, বর্তমান পরিস্থিতির মাধ্যমে দেশটিকে মূলত তারই চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। এই নীতির কারণেই পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। 

ফিদান উল্লেখ করেন যে, এবারের বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশই হলো বর্তমান প্রজন্মের সংবেদনশীল তরুণ সমাজ, যারা প্রতিনিয়ত কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই তরুণরা রাজপথে নেমে সরকারকে একটি কড়া বার্তা দিচ্ছে এবং ফিদান আশা প্রকাশ করেছেন যে, তেহরানের সরকার জনগণের এই ক্ষোভের ভাষা ও বার্তা সঠিকভাবে বুঝতে সক্ষম হবে।

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: আরাঘচিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: আরাঘচি
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান বিক্ষোভকে ২০২২ সালে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের চেয়ে আকারে ছোট বলে বর্ণনা করেছেন। ফিদান মনে করেন না যে এই বিক্ষোভের জেরে বর্তমান ইরান সরকারের পতন ঘটবে। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ফিদানের এই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, ১৯৯৯ সালের পর ইরানে এত বড় মাপের ও সংঘাতময় বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি। 

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এসইটিএ-র বিশ্লেষক মুস্তফা চানার মনে করেন, তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে যতই গভীর উত্তেজনা থাকুক না কেন, ইরানের অখণ্ডতা রক্ষা করা তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি। কারণ ইরানের পতন ঘটলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হবে, তার আঁচ থেকে তুরস্কও রেহাই পাবে না।

তুরস্কের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে কোনো নতুন গৃহযুদ্ধ বা শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চায় না। আঙ্কারা সতর্কতার সঙ্গে এই বিক্ষোভ পর্যবেক্ষণ করছে এবং মনে করছে যে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। 

ইরান সরকারের পতন কী আসন্ন?ইরান সরকারের পতন কী আসন্ন?
বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমর্থন এই আন্দোলনকে একটি ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছে যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে তুরস্কের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বক্তব্য তেহরানের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও তরুণ প্রজন্মের অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া পূরণ করা এখন ইরান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor