শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করে রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত: ০৬:৪২, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর গত এক বছরে এক লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে তার প্রশাসন। 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভিসা বাতিলের একটি নতুন রেকর্ড। গত ২০ জানুয়ারি ২০২৫-এ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বৈধ ভিসাধারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, আমেরিকাকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেই এই ব্যাপক ধরপাকড় ও ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এক লাখ ভিসার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার স্টুডেন্ট ভিসা বা শিক্ষার্থী ভিসা এবং ২ হাজার ৫০০টি বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর (যেমন এইচ-১বি ও এল-১বি) ভিসা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টমি পিগোট জানিয়েছেন, মূলত চারটি প্রধান কারণে এই ভিসাগুলো বাতিল করা হয়েছে। 

এর মধ্যে রয়েছে—ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান (ওভারস্টে), মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো (ডিইউআই), সহিংসতা বা শারীরিক হামলা এবং চুরির মতো অপরাধ। তিনি আরও জানান যে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অপরাধীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অভিবাসন নীতির আওতায় বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বৈধ ভিসাধারীর তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের জন্য একটি ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ গঠন করা হয়েছে। এই সেন্টারটি সার্বক্ষণিকভাবে বিদেশি নাগরিকদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তাদের ভিসা বাতিল করা হবে। 

এ ছাড়া নতুন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও ইংরেজি দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় যারা ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের আবেদনও সরাসরি বাতিল করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির ফলে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির বিদেশি নাগরিকরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা, যারা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার বড় অংশ দখল করে আছে, তাদের জন্য ভিসা পাওয়া ও টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, অপরাধ দমনের নামে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিকেও হাত-পা বেঁধে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক হুঁশিয়ারিতে মনে করিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার ভিসা পাওয়া কোনো অধিকার নয়, বরং এটি একটি বিশেষ সুযোগ বা সুবিধা, যা দেশের আইন অমান্য করলে যেকোনো সময় কেড়ে নেওয়া হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor