আর্জেন্টিনার সাংবাদিক ফেদে রদাস একটি বড় দাবি করেছেন। তার কথা অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মেসির এক সতীর্থ দলের গোপন তথ্য ফাঁস করেছিলেন। ওই খেলোয়াড় একাদশে জায়গা পাননি। তাই তিনি কোচ লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশ জানিয়ে দিয়েছিলেন।
রদাস আরও বলেছেন, ওই খেলোয়াড় আরেকটি তথ্যও দিয়েছিলেন। ফাইনালের প্রস্তুতির সময় অনুশীলনে এক আহত খেলোয়াড়কে নিয়ে একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই খবরও তিনি জানিয়ে দেন। তবে সাংবাদিক ওই খেলোয়াড়ের নাম বলেননি। শুধু বলেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষ মানের খেলোয়াড়। দলের অন্য কেউ তার চেয়ে এগিয়ে থাকবে, এটা তিনি মানতে পারছিলেন না।
রদাস বলেন, ‘আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন, কারণ তিনি যতটা চেয়েছিলেন ততটা খেলতে পারছিলেন না।
ওই খেলোয়াড় আমাকে বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরুর একাদশ জানিয়ে দিয়েছিলেন। অনুশীলনে এক আহত খেলোয়াড়কে নিয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার খবরও তিনি আমাকে দিয়েছিলেন।
তিনি দারুণ খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু তার চেয়েও ভালো কিছু খেলোয়াড় ছিল। এটা তিনি মেনে নিতে পারেননি। তার মনোভাব ছিল মোটামুটি এমন: ‘ও, আমাকে খেলাবে না? তাহলে আমি তোমার লাইনআপ ফাঁস করে দেব।’’
ফাইনালে স্কালোনি মাত্র একটি পরিবর্তন করেছিলেন। লুসাইলে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের জায়গায় নামেন আনহেল দি মারিয়া। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের দলের সঙ্গে এটাই ছিল একমাত্র তফাত।
ম্যাচে আর্জেন্টিনা প্রথমে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। মেসি পেনাল্টিতে গোল করেন। দি মারিয়াও একটি গোল করেন। এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পে দুটি গোল করে ম্যাচ ২-২ করে ফেলেন। অতিরিক্ত সময়ে মেসি আবার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু এমবাপে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যান। সেখানে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে আর্জেন্টিনা ৪-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
ওই বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স ছিল স্বপ্নের মতো। তিনি সাত ম্যাচে সাত গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেন। তিনি গোল্ডেন বল জেতেন। ছয়টি ম্যাচে তিনি গোল করেছেন। ফাইনালে করেছেন দুটি। ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও তিনি গোল করেন। তাতেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেণ্টিনা।
মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলেছেন। তবে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হেরে যায়।
Publisher & Editor