ছবি: সংগৃহীত
ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকরাও বাস করেন। তাদের সংখ্যাও কম নয়, মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ।
এরা মূলত ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর দেশের সীমানার ভেতরেই থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর। তারা অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের চেয়ে আলাদা। তারা ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেন। তারা সংসদের আইনপ্রণেতাদের নির্বাচন করেন। এমনকি কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা নির্ধারণেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু দেশের ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়েই ইসরায়েলের আরব দলগুলো ক্ষমতার প্রান্তসীমায় বা উপেক্ষিত অবস্থায় ছিল। তবে এবার হয়ত পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। প্রান্তসীমা থেকে এবার আরবরা হতে পারেন ইসরায়েলের কিংমেকার, মানে আরব দলগুলোই ঠিক করবে কারা ইসরায়েল শাসন করবে।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলি নির্বাচনে এটা স্পষ্ট, ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট বা বিরোধী দল— কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে তা নির্ধারণের চাবিকাঠি এখন আরব দলগুলোর আইনপ্রণেতাদের হাতে। তবে এই গল্পটি কেবল একটি নির্বাচনের গাণিতিক হিসাবের চেয়েও অনেক বড়। এটি মূলত ফিলিস্তিনি পরিচয়, সমান নাগরিকত্ব এবং ইহুদি হিসেবে সংজ্ঞায়িত একটি রাষ্ট্রে আরব প্রতিনিধিরা প্রকৃত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন কি না—তা নিয়ে কয়েক দশক ধরে চলা একটি বিতর্ক।
ইসরায়েলে বাস আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে মুসলিম, খ্রিষ্টান এবং দ্রুজ নাগরিকরা রয়েছেন। যদিও দ্রুজদের নিজস্ব রাজনৈতিক গতিশীলতা রয়েছে এবং তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে সমর্থন করে আসছেন। তাদের সবার মতামত কিন্তু কোনোভাবেই এক নয়। কিছু দল ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করে এবং আরব নাগরিকদের একটি জাতীয় সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়। অন্য দলগুলো ধর্মীয় আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হয়। আবার কিছু দল নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আরব-ইহুদি সহযোগিতার আহ্বান জানায়।
ইসরায়েলের প্রথম কয়েক দশকে আরবদের প্রতিনিধিত্ব প্রায়শই ডেভিড বেন-গুরিয়নের প্রধান দল 'মাপাই'-এর সাথে যুক্ত তালিকার মাধ্যমে হতো। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত আরব নাগরিকরা সামরিক প্রশাসনের অধীনে ছিলেন এবং তাদের চলাফেরা ছিল নিয়ন্ত্রিত। ওই তালিকাগুলো নির্বাচনে আসন জিতলেও, তাদের পেছনে থাকা ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর থেকে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল খুবই কম।
আরেকটি ধারা ছিল ইসরায়েলি কমিউনিস্ট পার্টি, যা বৈষম্যের বিরুদ্ধে, সমাজতন্ত্রের পক্ষে এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের লড়াইয়ে আরব ও ইহুদি কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এই আন্দোলনে বিভক্তির পর, নিউ কমিউনিস্ট লিস্ট বা 'রাকাহ' আরব ভোটারদের মধ্যে একটি প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯৭৭ সালে এটি 'হাদাশ' প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে, যা আজও একটি প্রধান আরব-ইহুদি জোট হিসেবে টিকে রয়েছে।
ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদও ছিল একটি অন্যতম ধারা। ১৯৬০-এর দশকে 'আল-আরদ' নিষিদ্ধ করা হয় এবং পরবর্তীতে অন্যান্য আন্দোলনগুলো একটি স্বাধীন কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। ১৯৯৫ সালে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স বা 'বালাদ' প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৬ সালে তারা নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) প্রবেশ করে। তারা যুক্তি দিয়েছিল যে আরব নাগরিকদের একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত এবং ইসরায়েলের জাতীয় পরিচয়কে মোকাবিলা না করে সমতা অর্জন করা অসম্ভব।
ইসলামপন্থি আন্দোলন থেকে পরবর্তীতে জন্ম নেয় ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা 'রাআম', যা মূলত ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক সমস্যা এবং আরব সম্প্রদায়ের বাস্তবসম্মত সুযোগ-সুবিধা বা অগ্রগতির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এই মতাদর্শগত পার্থক্যগুলো এখনও জোট গঠন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিটি দলের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে।
১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় শুরু হওয়া প্রথম ইন্তিফাদা ছিল একটি যুগান্তকারী মোড়। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয় এবং অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ এজেন্ডার শীর্ষে চলে আসে। এটি ইহুদি দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল তালিকার চেয়ে স্বাধীন আরব সংগঠনগুলোর গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।
সে সময় আরব নাগরিকরা একটি কঠিন ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা একদিকে ইসরায়েলের নাগরিক ছিলেন এবং ভোট দিতে পারতেন। আবার অন্যদিকে তাদের অনেকেই ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে এই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি আরবদের প্রতিক্রিয়া একক বা অভিন্ন ছিল না। এটি জাতীয়তাবাদকে গ্রহণকারী, আরব-ইহুদি অংশীদারিত্বের সমর্থক এবং ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবর্তনকামী—এই পক্ষগুলোর মধ্যকার ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ১৯৯০-এর দশকের অসলো শান্তি প্রক্রিয়া সংঘাত নিরসনের আশা জাগালেও, তা অনেক আরব নাগরিককে ইসরায়েলের ভেতরে তাদের অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট করে তোলে।
২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদা ইসরায়েল রাষ্ট্রের সাথে আরবদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও মারাত্মক আঘাত হানে। অক্টোবরের শুরুর দিকে এই প্রতিবাদ আরব শহর ও গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে। ইসরায়েলি পুলিশ এতে সহিংস বলপ্রয়োগ করে, যার ফলে ইসরায়েলের ১৩ জন আরব নাগরিক নিহত হন।
অনেকের কাছেই এই হত্যাকাণ্ড এমন একটি রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্তির সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করে দেয়, যে রাষ্ট্রটি তাদের সাথে অন্যায্য আচরণ করেছে বলে তারা মনে করতেন। এর ফলে পুলিশ ও সরকারের প্রতি অবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। এমনকি তাদের ভোট দেওয়ার ধরনেও পরিবর্তন আসে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, আরব ভোটারদের ভোটদানের হার নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ২০০৩ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত চারটি নির্বাচনে আরবদের ভোটদানের গড় হার ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ, যেখানে জাতীয়ভাবে এই হার ছিল ৬৬ শতাংশ। সরকারি নীতির প্রতি ক্ষোভ এবং আরব প্রতিনিধিদের দুর্বলতার কারণে নির্বাচন বর্জনের ডাক বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
একতার প্রয়োজনীয়তা থেকে ২০১৫ সালের নির্বাচনের আগে 'যৌথ তালিকা' তৈরি করা হয়। জাতীয়তাবাদ, ধর্ম এবং ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সাথে সম্পর্কের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে নানা মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এটি হাদাশ, বালাদ, তা'আল এবং রাআম-কে একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করে। ২০১৫ সালে এই জোট ১৩টি আসন লাভ করে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই চার দল আবারো একসাথে নির্বাচন করে রেকর্ডসংখ্যক ১৫টি আসন জেতে এবং পার্লামেন্টের তৃতীয় বৃহত্তম উপদলে পরিণত হয়।
তবে কেবল আসন জেতাই ক্ষমতার নিশ্চয়তা ছিল না। ২০২০ সালে যৌথ তালিকা প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনকে বেনি গান্তজ-কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। আরব আইনপ্রণেতাদের ওপর এই নির্ভরতা রাজনৈতিকভাবে বেশ বিতর্কিত হয়ে ওঠে এবং এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কোনো বিকল্প সরকার গঠন করতে পারেনি। এই ঘটনাটি একটি চিরন্তন সমস্যাকে সামনে এনেছিল: আরব দলগুলো কিংমেকার হতে পারলেও, ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো তাদের সব সময় বৈধ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করত না।
২০২১ সালে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন 'রাআম' যৌথ তালিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করে। আব্বাস বলেন যে, সব সময় বিরোধী দলে থাকার চেয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে আরব নাগরিকরা বেশি উপকৃত হবেন। রাআম দলটি নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিডের গঠিত জোটে যোগ দেয়, যা ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে কোনো ইসরায়েলি সরকারি জোটে বসা প্রথম স্বাধীন আরব দল।
দলটি আরব সম্প্রদায়গুলোতে অপরাধ ও সহিংসতা দমন, আবাসন ও পরিকল্পনা সমস্যা সমাধান এবং সরকারি পরিষেবাগুলোতে সমান অধিকারের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও নীতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রচারণা চালায়। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে, ইসরায়েলের ইহুদি চরিত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি সরকারে অংশ নিলে তা ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে। অন্যদিকে সমর্থকরা বলেন, ’কেবল অংশ নেওয়ার মাধ্যমেই মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের উন্নতি করতে পারে।’ এই পরীক্ষাটি দেখিয়েছিল যে একটি আরব দল সরকারে যোগ দিতে পারে। তবে এমন একটি দল নিজের আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সাথে কতদূর সহযোগিতা করতে পারে, তার কোনো সীমা এটি নির্ধারণ করেনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলা ইসরায়েলকে পুরোপুরি বদলে দেয়। ইসরায়েলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইসরায়েল এর জবাবে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে, যা গাজার বিশাল অংশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে, হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে এবং একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়।
এর পরবর্তী পরিস্থিতি আরব নাগরিকদের জন্য বিশেষভাবে কঠিন ছিল। তারা এমন একটি দেশে বাস করছিলেন, যা ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আবার একইসাথে তারা গাজার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের সাথেও নিজেদের সম্পৃক্ত অনুভব করছিলেন। তাদের প্রতিনিধিদের ইসরায়েলিদের শোক ও ভয়, যুদ্ধের প্রতি ক্ষোভ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণের উদ্বেগের মাঝে খুব সতর্কতার সাথে পথ চলতে হয়েছিল। আরব নাগরিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের প্রকাশ্যে মন্তব্য বা সংহতি প্রকাশের কারণে নিশানা করায় তাদের নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে রাআম-এর বাস্তবমুখী কৌশল সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। যুদ্ধের কারণে নাগরিক উদ্বেগ এবং ফিলিস্তিনি জাতীয় ইস্যুগুলোকে আলাদা করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু তাদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো আগের মতোই রয়ে যায়: আরব শহরগুলোতে সহিংসতা ও সংগঠিত অপরাধ, আবাসনের অভাব, পরিকল্পনাগত নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারি সম্পদের সমবণ্টন। ৭ অক্টোবরের ঘটনা দলগুলোর মধ্যকার বিভাজনকে মুছে দেয়নি, বরং তা আরও স্পষ্ট ও তীব্র করে তুলেছে।
এবারের নির্বাচনে যদি কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন না পায়, তবে আরব আইনপ্রণেতারাই নির্ধারণ করতে পারেন আগামীতে কে ইসরায়েল শাসন করবে। রাআম ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আরব নাগরিকদের প্রয়োজন মেটানোর প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তারা জোটে যোগ দেবে। হাদাশ এবং তা'আল মূলত সরকারের বাইরে থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে বালাদ ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতির প্রতি আরও সংঘাতমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছে। যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত আসনের সংখ্যা, দলগুলোর শর্ত এবং সম্ভাব্য কোনো প্রধানমন্ত্রী তাদের ভোটের ওপর নির্ভর করতে ইচ্ছুক কি না তার ওপর নির্ভর করবে।
ইতিহাস সতর্ক করে যে, পার্লামেন্টের আসনের গাণিতিক হিসাব মানেই প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি নয়। আরব দলগুলোর জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভোটারদের বিশ্বাসের সাথে আপোশ না করে আসনগুলোকে বাস্তব পরিবর্তনে রূপ দেওয়া। আর ইসরায়েলের রাজনৈতিক এস্টাবলিশমেন্টের জন্য প্রশ্ন হলো, তারা আরব প্রতিনিধিদের বৈধ অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে কি না, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংকটের সময় কেবল প্রয়োজনীয় কিছু ভোট হিসেবেই তাদের ব্যবহার করবে।
এই উত্তরটি কেবল ইসরায়েল কে শাসন করবে তা-ই নির্ধারণ করবে না; বরং এটি নির্ধারণ করবে যে আরবদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ দেশটির শাসনব্যবস্থার একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হতে পারবে কি না।
Publisher & Editor