বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সেলিম-আলী পরিষদের সমাবেশ

প্রকাশিত: ০৬:৩১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১২

নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এর প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে সমাবেশ করেছে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের ব্রঙ্কস ব্যুরো নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। সমাবেশে বক্তারা নির্বাচন স্থগিতের জন্য মামলা দায়েরকারী ওসমান চৌধুরীর সমালোচনা করেন এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সংগঠনের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের একটি কমিউনিটি হলে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ব্রঙ্কস ব্যুরো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রচার বিভাগের আহ্বায়ক শাহ বদরুজ্জামান রুহেলের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন ব্রঙ্কস ব্যুরো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান এবং সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য আব্দুল হাসিম হাসনু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য মনসুর আহমদ। গীতা পাঠ করেন পল্লব সরকার।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্ট ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৫ নভেম্বর।

সমাবেশে বক্তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রচার-প্রচারণা ও অন্যান্য আয়োজনের পেছনে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সোসাইটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং প্রায় ৩৫ হাজার ভোটারের ভোট দেওয়ার সুযোগ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৮ সাল থেকে মামলা-মোকদ্দমার কারণে বাংলাদেশ সোসাইটিকে বারবার আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতি সংগঠনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভাবমূর্তি ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসমান চৌধুরীর বক্তব্য সমাবেশে পাওয়া যায়নি।

বক্তারা আরও বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা যখন ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন, তখন নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংগঠনের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি ও স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে বাংলাদেশ সোসাইটির নেতারা বলেন, মামলার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে একতরফা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সোসাইটির আগের কার্যকরী কমিটির সভায় ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল এবং বর্তমান নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেছে।

নেতারা বলেন, ওসমান চৌধুরী এর আগেও ২০১৮ সালে মামলা করেছিলেন, যা তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী এখনো চলমান। তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতিও তাঁরা শ্রদ্ধাশীল। এ বিষয়ে তাঁরা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী এনাম মিয়া দুলাল ও সালেহ আহমদ মানিক, ব্রঙ্কস ব্যুরোর প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আহমদ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন আহমদ সোহাগ, মূলধারার রাজনীতিবিদ আব্দুস শহীদ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ সোসাইটির যুব ও আইটি সম্পাদক পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী রোমানা আহমেদ, ব্রঙ্কস ব্যুরোর প্রধান সমন্বয়কারী মুমিনুল ইসলাম মুমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহান আহমেদ টুটুল ও মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী, ব্রঙ্কস ব্যুরোর যুগ্ম সদস্য সচিব ফরহাদ আলম লিটু ও দুলাল রহমান, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটির সাবেক সভাপতি তোজাম্মুল হোসেন, হবিগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি সাব্বির আহমেদ, বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ সভাপতি লোকমান হোসেন লুকু, কবি এমরান আলী টিপু, কবির ফারুক, শেখ ওলি,  বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী মনির আহমেদ, সিলেট জেলা সমিতির সভাপতি কপিল আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাহিত্য সম্পাদক আহমেদ ফয়সল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশে ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী কার্যক্রম এখন পরবর্তী আদালতের শুনানি ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। আগামী ৫ নভেম্বরের শুনানিতে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor