সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

অকারণে ওজন কমছে, রাতে ঘাম হচ্ছে? যক্ষ্মা নয় তো!

প্রকাশিত: ০৭:০৫, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | ৬

দীর্ঘদিনের কাশি যক্ষ্মার (টিবি) পরিচিত লক্ষণ। তবে শুধু কাশিই নয়, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, ক্ষুধামন্দা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো উপসর্গও হতে পারে এই রোগের ইঙ্গিত।

এসব লক্ষণকে কাজের চাপ বা সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।
ভারতে বিশ্বের মোট যক্ষ্মা রোগীর প্রায় এক-চতুর্থাংশের বাস। এত দিন যক্ষ্মা শনাক্তের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পরামর্শ এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

তবে রোগের অন্যান্য লক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের লাইফস্টাইলবিষয়ক প্রতিবেদনে চিকিৎসক রাজেন্দ্র প্রসাদ যক্ষ্মার এমন কিছু লক্ষণ তুলে ধরেছেন, যেগুলো অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়। তিনি লখনউয়ের এরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ও ফুসফুসের রোগবিষয়ক অধ্যাপক।

যক্ষ্মার ১০ লক্ষণ

১. দুই সপ্তাহের বেশি কাশি

যক্ষ্মার ক্ষেত্রে কাশি শুকনো হতে পারে, আবার কাশির সঙ্গে কফও বের হতে পারে।

সাধারণ সর্দি-কাশির মতো সহজে সেরে না গিয়ে এটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। কাশি দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে যক্ষ্মার পরীক্ষা করানো জরুরি।
২. কফের সঙ্গে রক্ত আসা

কাশির সঙ্গে কফে সামান্য গোলাপি বা লালচে দাগ দেখা যেতে পারে। কখনো রক্তের পরিমাণ বেশি হতে পারে। এটি ফুসফুস বা শ্বাসনালিতে ক্ষতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

কফের সঙ্গে রক্ত এলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বেশি পরিমাণে রক্ত উঠলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
৩. বুকে ব্যথা

বুকে তীক্ষ্ণ ব্যথা কিংবা মৃদু ব্যথা হতে পারে। গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া বা কাশির সময় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের ব্যথা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে আসা-যাওয়া করতে পারে।

৪. শ্বাসকষ্ট

আগের তুলনায় অল্প হাঁটাহাঁটি, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতেই বেশি হাঁপিয়ে উঠতে পারেন। শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় অনেকে বিষয়টি বুঝতে পারেন না।

৫. জ্বর

যক্ষ্মায় সাধারণত হালকা জ্বর হতে পারে, যা দিনের তুলনায় সন্ধ্যার দিকে বেশি দেখা দিতে পারে। জ্বর কয়েক সপ্তাহ ধরে আসা-যাওয়া করতে পারে। তীব্র জ্বর না হওয়ায় অনেক সময় বিষয়টি নজর এড়িয়ে যায়।

৬. রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাতে এত বেশি ঘাম হতে পারে যে পোশাক বা বিছানার চাদর ভিজে যায়। একাধিক রাতে এমন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

৭. অকারণে ওজন কমে যাওয়া

খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় পরিবর্তন না এনেও ওজন কমতে পারে। ধীরে ধীরে ওজন কমায় অনেক সময় প্রথমে পোশাক ঢিলেঢালা হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা যায়।

৮. ক্ষুধামন্দা

খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। আগের তুলনায় কম খাওয়া কিংবা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে খাবার এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

৯. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি

পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্লান্তি দূর না হওয়া যক্ষ্মার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। বাজারে যাওয়া, হাঁটাহাঁটি কিংবা কর্মদিবসের স্বাভাবিক কাজও আগের তুলনায় কঠিন মনে হতে পারে।

১০. ঘাড়ে ফোলা বা ফুসফুসের বাইরের উপসর্গ

যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসেই নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও আক্রান্ত করতে পারে। চিকিৎসক রাজেন্দ্র প্রসাদের মতে, ঘাড়ের গ্রন্থিতে সাধারণত ব্যথাহীন ফোলা দেখা দিতে পারে, যা ধীরে ধীরে বড় হয় এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হতে পারে।

এ ছাড়া হাড় বা গিঁটে ব্যথা, পিঠব্যথা, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, প্রস্রাবে রক্ত কিংবা পেটে ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। কোন অঙ্গে সংক্রমণ হয়েছে, তার ওপর লক্ষণ নির্ভর করে।

কখন পরীক্ষা করাবেন?

দুই সপ্তাহের বেশি কাশি, কফে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর কিংবা রাতের অতিরিক্ত ঘামের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব উপসর্গের অর্থই যক্ষ্মা হয়েছে, এমন নয়। তবে পরীক্ষা ছাড়া রোগটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

যক্ষ্মা নিরাময়যোগ্য রোগ। দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমানো যায়।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor