শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

নেহা বোরা যেভাবে ভারতে গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের তরুণ মুখ

প্রকাশিত: ০৭:৩৪, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪

বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পরিবারের কেউ কেউ বিজেপির সমর্থক। সেই পরিবারেরই এক তরুণী এখন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের অন্যতম ‘চক্ষুশূল’; কখনো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘ অনশনে বসছেন, কখনো মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছেন, আবার কখনো ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁকে আটক করা হয়েছে, গায়ে কালি ছোড়া হয়েছে, হত্যার হুমকিও এসেছে। তবু প্রতিবাদের মাঠ ছাড়েননি নেহা বোরা।

ভারতের এই ছাত্রনেত্রীর উত্থান শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার গল্প নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থার প্রশ্নে তরুণদের ক্ষোভকে তিনি রাজনৈতিক ভাষা দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যে যেমন বামপন্থী বিশ্বাস স্পষ্ট, তেমনি রয়েছে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করার সাহস। এই দুইয়ের সমন্বয়েই নেহা হয়ে উঠছেন ভারতে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে তরুণদের মুখ ।

কে এই নেহা
উত্তরাখণ্ডের খাটিমার বাসিন্দা নেহা বোরার বয়স ২৯ বছর। তিনি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি; বর্তমানে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসে নাটক ও পরিবেশনা বিষয়ে পিএইচডি করছেন।

সেনা কর্মকর্তা বাবার চাকরির সূত্রে দেশের বিভিন্ন শহরে নেহার বেড়ে ওঠা। কয়েক বছর কাটিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গেও; শিলিগুড়িতে পড়াশোনা করেছেন। পরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও দিল্লির আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন। জেএনইউতে এসে ছাত্ররাজনীতি ও আইসার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন।

তবে রাজনীতিতে নেহার প্রবেশের পথ ছিল নাটক। নেহার ভাষ্য অনুযায়ী, নাটক তাঁকে বুঝিয়েছে, রাজনীতি শুধু নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রতিদিনের জীবনেও রাজনীতি আছে। কে শিক্ষা পাবেন, কে চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, কার মর্যাদা রক্ষিত হবে কিংবা কে ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করতে পারবেন—এসবও রাজনৈতিক বিষয়।

এসব উপলব্ধিই নেহার সক্রিয়তার পরিসর বাড়িয়েছে। শিক্ষার বেসরকারীকরণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি গণপিটুনি, বিলকিস বানোর ন্যায়বিচার, গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও মানবিক সংকট নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর রাজনীতি পৌঁছেছে নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির প্রশ্নে।

ককরোচ আন্দোলন: অনশন থেকে জাতীয় পরিচিতি
নেহা জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলন থেকে। ২০২৬ সালের জুন–জুলাইয়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়মের জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ হয়। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে আয়োজিত এই আন্দোলনে আইসার অন্য কর্মীদের সঙ্গে নেহাও অংশ নেন। শিক্ষাবিদ ও জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে তিনি ২৩ দিন অনশন করেন।

দীর্ঘ অনশনে নেহার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। পরে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংসদ সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলের আবেদনের পর অনশন প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু তত দিনে আন্দোলনের ছবি, ভিডিও ও বক্তব্য তাঁকে দেশের তরুণ প্রতিবাদকারীদের পরিচিত মুখ করে তুলেছে।

এই আন্দোলনকে কেউ কেউ ‘নেতৃত্বহীন’ বলেছিলেন। নেহা অবশ্য এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেতৃত্বহীন বলা হলেও আন্দোলনটি মোটেই রাজনীতিহীন ছিল না। সেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন ছিল। আইসা ও ককরোচ জনতা পার্টির সহযোগিতাও সেই রাজনৈতিক দাবিগুলোকে সামনে এনেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে নেহা তরুণদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই আন্দোলন কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার যে সাহস নেহা ও তাঁর সহযোদ্ধারা দেখাচ্ছেন, সেটিই ভারতের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য আশার একটি কারণ।
তরুণদের মধ্যে বামপন্থীদের আবেদন নিয়ে নেহার ব্যাখ্যাও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, আন্দোলনে বামপন্থীদের ভাষা, স্লোগান ও সৃজনশীলতা তরুণদের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করেছে। অর্থাৎ প্রচলিত দলীয় পরিচয়ের বাইরেও অভিন্ন দাবি মানুষকে এক জায়গায় দাঁড় করাতে পারে।

দ্য ওয়্যারের জন্য করণ থাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেহাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সরকারি বাড়াবাড়ির মুখোমুখি হওয়ার ভয় কি জেন–জি কাটিয়ে উঠেছে? নেহার দ্বিধাহীন উত্তর ছিল, ‘জেন–জি তার ভয় হারিয়েছে।’

এই বক্তব্যের মধ্যেই নেহার রাজনৈতিক ভূমিকার একটি দিক স্পষ্ট হয়। পরীক্ষায় অনিয়ম বা চাকরির অনিশ্চয়তায় ক্ষুব্ধ তরুণদের তিনি শুধু অসন্তোষ প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছেন না; সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করতেও উৎসাহিত করছেন। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে তাঁর পারস্পরিক স্বীকৃতিও অনেকের নজরে এসেছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে একজন নেহাকে ‘পুরোদস্তুর জেন–জি আইকন’ আখ্যা দিয়ে দিপকের চেয়ে বেশি প্রতিভাবান বলেছিলেন। সেখানে অভিজিৎ দিপকে  মন্তব্য করেন, ‘আমি একমত।’

নেহা যেভাবে বিজেপির টার্গেট
নেহার প্রতিবাদী ভাষা তাঁকে জনপ্রিয় করেছে, একই সঙ্গে বিজেপি নেতাদের বিরাগভাজনও করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া এসেছে রাজনৈতিক বক্তব্য, পুলিশে অভিযোগ, অনলাইন বিদ্বেষ এবং সরাসরি আক্রমণের মাধ্যমে।
৭ আগস্ট ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে রাঁচির এক বিক্ষোভে নেহার গায়ে কালি ছোড়া হয়। বিজেপি-সমর্থিত এক কর্মী তাঁকে ‘দেশবিরোধী’ বলে এই হামলা করেন। নেহা পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই কালি তিনি ‘গর্বের সঙ্গে’ ধারণ করবেন; আন্দোলনকারীরা ‘কালি দিয়েই ভবিষ্যৎ লিখবেন’।

আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনার পর। ১৪ সেপ্টেম্বর গোরখপুরে ‘জেন–জি মহাজুটান’ নামের জনসভায় নেহা তাঁকে ‘গুণ্ডা’ ও ‘দাঙ্গাবাজ’ বলেন। তাঁর অভিযোগ, বুদ্ধ ও কবিরের স্মৃতিবিজড়িত গোরখপুরকে আদিত্যনাথ ‘দাঙ্গার ভূমিতে’ পরিণত করেছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা ভেঙে সংখ্যালঘু ও দলিতদের নিপীড়নের জন্যও তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেন।

নেহা বোরা
শিক্ষা আন্দোলনের পর নেহার সক্রিয়তা ভোটাধিকারের প্রশ্নেও বিস্তৃত হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে আন্দোলন এখন তুঙ্গে।

২ অক্টোবর থেকে যন্তর মন্তরের আশপাশে চলা ওই বিক্ষোভে নেহা ছিলেন সামনের সারিতে। ৩ অক্টোবর অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাঁকেও আটক করা হয়। পরদিন নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে ঢোকার চেষ্টায় পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে পড়েন তিনি।

আইসার অভিযোগ, পরে তাঁকে টেনে এমন একটি গাড়িতে তোলা হয়, যাতে সরকারি নম্বরপ্লেট ছিল না। নারেলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া থানা থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার সুযোগ থেকে ভোটের অধিকার—নেহার আন্দোলনের এই বিস্তার তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্নটিকে সামনে আনে: নাগরিকেরা তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কতটা প্রশ্ন করতে পারছেন?

জ্ঞানেশেই কি গণেশ ওলটাবে মোদির?
এরপর পুলিশের কাছে নেহার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ জমা পড়ে। বিজেপির নেতারা এফআইআর করার দাবি জানান। মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর তাঁর কথিত ‘নাটকবাজির’ জন্য ‘সঠিক ওষুধ’ দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেন।

আইসার ভাষ্য অনুযায়ী, নেহাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সংগঠনটির কাছে একাধিক বার্তা ও ভয়েস নোটও আসে। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রমাণসহ উত্তর প্রদেশের পুলিশের কাছে অভিযোগ করে তারা।
নেহার মতো একজন ছাত্রনেত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রীর হুমকি এবং পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণের তৎপরতা একটি প্রশ্ন তৈরি করে: ক্ষমতাসীনদের তীব্র সমালোচনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে, নাকি ভয় দেখিয়ে থামানোর চেষ্টা করা হবে?

নেহার উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক শুধু উত্তর প্রদেশ বা দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ৫ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসার সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করে আরএসএস-সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠন এবিভিপি। তাদের আপত্তি ছিল ক্যাম্পাসে ‘বাইরের’ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরএসএসের ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর বিরোধিতার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুষ্ঠানটির অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কমিটি বিলুপ্ত করেন।

ঘটনাটি দেখায়, নেহার বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে যাদবপুরে দাঁড়িয়ে নেহা বাংলার প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘আজ বাংলার দায়িত্ব শুধু নিজের মাটি বা প্রগতিশীল চিন্তাকে রক্ষা করা নয়; গোটা দেশ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।’

বামপন্থী নেহা
নেহা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করেন না। তিনি বামপন্থী, তাঁর বিশ্বাস মার্ক্সবাদী রাজনীতিতে। তাঁর সংগঠন আইসা সিপিআই (মার্ক্সবাদী–লেনিনবাদী) লিবারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভারতীয় বরখা দত্তের সঙ্গে আলাপেও নিজের রাজনীতি, ছাত্র আন্দোলন, বেকারত্ব, শিক্ষা ও ভিন্নমত নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

নেহার বামপন্থার কেন্দ্রে রয়েছে সাম্য ও শিক্ষার অধিকার। মুম্বাই প্রেসক্লাবের এক আলোচনায় তিনি বলেন, সমাজের বড় অংশকে শিক্ষার বাইরে রেখে দেশের অগ্রগতি আশা করা যায় না। সবার মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থী দলগুলো ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষাকে যথেষ্ট অগ্রাধিকার দেয় না।

শিক্ষার বেসরকারীকরণকে নেহা দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা সংকটের অংশ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, বাস্তবসম্মত সমাধানের ভিত্তিতে পুরো ব্যবস্থার পুনর্গঠন প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘স্বপ্ন ছিল সাম্যের ভিত্তিতে একটি দেশ গড়া। গণতন্ত্রের মর্মকথাই সাম্য।’ এই অবস্থান থেকেই নেহা শিক্ষা ও চাকরির দাবিকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেন। শিক্ষার সুযোগ বণ্টনে বৈষম্য থাকলে, নিয়োগ পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হলে কিংবা ভোটার তালিকা নিয়ে নাগরিকের আস্থা দুর্বল হলে—তরুণদের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কাশ্মীরের ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে প্রশ্নের জবাবেও নেহা বলেন, ‘আমি কাশ্মীরিদের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করি।’ আবার তরুণদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন দেওয়ায় কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করেছেন। নিজের মতাদর্শে দৃঢ় থেকেও নির্দিষ্ট প্রশ্নে অন্য রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা স্বীকার করেন তিনি।

প্রচলিত বামপন্থী বলয়ের বাইরেও খুব অল্প সময়ে নেহার গ্রহণযোগ্যতার কারণ সম্ভবত এখানেই। চাকরি, পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শিক্ষার ব্যয় ও পুলিশের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন তরুণেরা তাঁর বক্তব্যে নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন খুঁজে পাচ্ছেন। তাঁদের উদ্বেগকে তিনি সাম্য, অধিকার ও জবাবদিহির ভাষায় প্রকাশ করছেন। অনশনের পর এক সাক্ষাৎকারে নেহা বলেছিলেন, আশাকে ‘পেশির মতো অনুশীলন’ করতে হয়। সংহতির ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে তাকে শক্তিশালী করতে হয়, যতক্ষণ না মানুষ ভয় কাটিয়ে ওঠে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে নেহা তরুণদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই আন্দোলন কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার যে সাহস নেহা ও তাঁর সহযোদ্ধারা দেখাচ্ছেন, সেটিই ভারতের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য আশার একটি কারণ।

নেহার কোনো কোনো সমর্থক তাঁকে ‘আধুনিক ঝাঁসির রানি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। গণতন্ত্র রক্ষায় নেহা কতদূর কী করতে পারবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। নেহার গুরুত্ব বরং এই যে তিনি প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন, এর জন্য বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হয়েও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অন্যদেরও প্রশ্ন করার সাহস জোগাচ্ছেন। তাঁর সামনে এখন যেমন জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ, তেমনি দমন ও হুমকির ঝুঁকিও রয়েছে। এর মধ্যেই শিক্ষা, সাম্য ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে অবিচল থাকার চেষ্টা তাঁকে  ভারতে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে তরুণদের মুখ করে তুলেছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor