শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

নানা পাটেকরের প্রয়াণে ‘অপমৃত্যু’র মামলা দায়ের করল পুলিশ

প্রকাশিত: ০৭:১৩, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১১

বলিউড ও মারাঠি চলচ্চিত্রের খ্যাতনামা ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর গত বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ওই দিনই চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। আজ শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে গোয়ার পানাজি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ ডোনা পালার বাসভবন থেকে নানা পাটেকরকে বোম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি; হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটিকে একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) হিসেবে ঘোষণা করায় গোয়ার পানাজি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৯৪ ধারায় একটি ‘অপমৃত্যু’ মামলা দায়ের করে। 

পুলিশ ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একা থাকা অবস্থায় বাড়িতে কারো মৃত্যু হলে এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হলে সম্ভাব্য যেকোনো অস্বাভাবিকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় খতিয়ে দেখতে এ ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ একটি রুটিন পুলিশি নিয়ম।

গোয়া থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বর্ষীয়ান এই অভিনেতার লাশ বিমানে করে মহারাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পুনের দোনজে এলাকায় অভিনেতার প্রিয় খামারবাড়িতে গভীর রাতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। 

শেষবিদায় জানাতে গভীর রাত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার ভক্ত, সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা। উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাগণও। 

বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নানা পাটেকরের ছেলে মালহার পাটেকর। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘নানা সাহেবের মতো মানুষ কখনো আমাদের ছেড়ে চলে যান না; নিজের কাজের মাধ্যমে তিনি অমর হয়ে থাকেন। তিনি সবসময় চাইতেন সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সৎ ও সঠিক পথে চলে। তার রেখে যাওয়া স্বপ্ন ও চিন্তাভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’ 

রাত বেশি হওয়ায় কেন তড়িঘড়ি করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে মালহার জানান, গোয়া থেকে মরদেহ পুনের গ্রামে পৌঁছাতে অনেকটা সময় লেগে গিয়েছিল। যেহেতু ঘটনাটি ভোরবেলায় ঘটেছিল এবং অনেক সময় পার হয়ে গিয়েছিল, তাই বিলম্ব না করে রাতেই কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor